নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ মে ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ইট, পাথর আর কংক্রিটে ঘেরা ব্যস্ত রাজধানীতে খোলা জায়গা দিন দিন কমছে। তাই একটু প্রশান্তির খোঁজে সুযোগ পেলেই নগরবাসী ছুটে যান সবুজের কাছে। শ্রমিক দিবসের ছুটি ও শুক্রবারের সাপ্তাহিক অবকাশ মিলিয়ে সেই সুযোগ যেন আরও সহজ হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর রমনা পার্কে ছিল মানুষের ঢল। সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ আসতে শুরু করেন। বিকেলের দিকে পার্কজুড়ে তৈরি হয় উপচে পড়া ভিড়। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পায় রমনা পার্ক।
সবুজে ঘেরা পার্কজুড়ে ছিল আনন্দ আর স্বস্তির আবহ। কোথাও বন্ধুদের আড্ডা, কোথাও প্রিয়জনের সঙ্গে গল্প, আবার কোথাও পরিবার নিয়ে শান্ত সময় কাটাতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের। তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রকৃতিপ্রেমীরাও নিজেদের মতো করে উপভোগ করেছেন প্রকৃতির সান্নিধ্য।
রমনা পার্কের লেকপাড়ের হাঁটার ডেক এখন দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। কাঠের পাটাতনের ওই স্থানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। কেউ ছবি তুলেছেন, কেউ দাঁড়িয়ে উপভোগ করেছেন লেকের সৌন্দর্য।
রাজধানীর রামপুরা থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন রাজিব ও মাহমুদা দম্পতি। তাঁরা বলেন, সাধারণত সন্তানদের নিয়ে বাইরে বের হওয়ার সুযোগ কম হয়। ছুটির দিন পেয়ে তাই ঘুরতে এসেছেন। সন্তানদের সঙ্গে তাঁরাও সময়টা উপভোগ করছেন।
ধানমন্ডি থেকে সন্তানকে নিয়ে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রহিমা খাতুন বলেন, রমনা পার্কের পরিবেশ খুব সুন্দর ও খোলামেলা। চারদিকে সবুজ থাকায় শিশুদেরও ভালো লাগে। দুপুরে ভিড় কম থাকলেও বিকেলের দিকে পা ফেলার জায়গা ছিল না। শিশুদের জন্য থাকা বিনা মূল্যের রাইডও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করেছে।
বিকেলে ডেমরা থেকে রমনায় ঘুরতে এসেছেন সবুজ আলী। তিনি বলেন, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর খুব বেশি ছুটি মেলে না। তাই দূরে কোথাও যাওয়া হয় না, ঢাকার আশপাশেই ঘুরতে হয়। একসময় নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে রমনা পার্কে আড্ডা দিতেন। এখন খুব একটা আসা হয় না। গ্রামের বাড়ি থেকে খালাতো ভাই আসায় তাঁকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। তাঁর ভাষ্য, আগের চেয়ে পার্কটি এখন আরও সুন্দর ও পরিপাটি হয়েছে। হাঁটার পাশাপাশি বসারও পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে।
এআর