নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ মে ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
দেশের শ্রমবাজারে শোষণমূলক ব্যবস্থা থাকলে ন্যায্য মজুরি পাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতারা।
শুক্রবার (১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ কথা বলেন তারা।
শ্রমিক ফ্রন্টের নেতারা বলেন, খাদ্য-পোশাক, ওষুধ-যানবাহনসহ যা কিছু মানুষ ব্যবহার করে, সবই তৈরি হয় শ্রমিকের শ্রমে। কাজের বিনিময়ে শ্রমিক পায় মজুরি, মালিক নেয় মুনাফা। কার্ল মার্কস হিসাব করে দেখিয়েছিলেন, শ্রমিকদের বেশি সময় ধরে কাজ করালে এবং কম মজুরি দিলে মালিকের মুনাফা বাড়ে।
তারা বলেন, শ্রমিক চায় এমন মজুরি, যাতে মানসম্মত জীবনযাপন, সন্তানের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাসাভাড়া ও বৃদ্ধবয়সের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। কিন্তু শ্রমিক মাস শেষে যে মজুরি পায়; বাড়ি ভাড়া ও দোকানের বাকি পরিশোধ করতেই শ্রমিক আবার দেনায় জড়িয়ে পড়ে। সারা জীবন তাকে এই চক্রে আটকে থাকতে হয়। তাই আট ঘণ্টা কাজ ও ন্যায্য মজুরি এবং শোষণমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি একসাথেই ওঠেছিল। শোষণমূলক ব্যবস্থা থাকলে ন্যায্য মজুরি পাওয়া সম্ভব নয়-প্রয়োজন শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।
নেতারা বলেন, সরকার বলে মাথাপিছু আয় ২৮৪২ ডলার, সে অনুযায়ী ৫ সদস্যের পরিবারের মাসিক আয় হওয়া কথা ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকার বেশি। বাস্তবে কি কোনো শ্রমিক পরিবারের এ পরিমাণ মজুরি, ক্ষতিপূরণ কম, ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নেই, এই সব বঞ্চনার জীবন শ্রমিকের। আয় হয়। ক্ষমতাসীনরা দেশের উন্নতির গর্ব করে, কিন্তু শ্রমিকের মজুরি নিয়ে নীরব।
তারা আরও বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তা শ্রমিক আর ধনী মালিকের দেশ বাংলাদেশ। একই সাথে আয় বৈষম্যের দেশও বাংলাদেশ। গার্মেন্টস-নিট, সুয়েটার, ফার্মাসিউটিক্যালস, রি-রোলিং, পাট-চা, তাঁত-পরিবহন, মোটর মেকানিক, রিকশা, দোকান-হোটেল; এক কথায় সব সেক্টরের শ্রমিক মানসম্মত মজুরি থেকে বঞ্চিত।
এ সময় শ্রমিক নেতা আব্দুল আলীম, সুবাস বিশ্বাস, রেহমান রাহাত ও মশিউর রহমানসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এসএইচ/এআর