images

জাতীয়

মে দিবস পালনে দিনব্যাপী নানা আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ মে ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

মহান মে দিবস আজ। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে শ্রমিক শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এই দিনকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য—‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’।

মহান মে দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে বলেন, ‘দেশব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস পালিত হচ্ছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এ উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’

‘শ্রমিকের অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচনায় দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত; আসবে এবার নব প্রভাত’ সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গের ইতিহাস স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তাদের সেই আত্মত্যাগ শ্রমিক শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজও আমাদের প্রেরণা ও শক্তি জোগায়।’

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাদের কল্যাণে যুগান্তকারী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার শ্রম আইন সংস্কার, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের যৌক্তিক মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে পেনশন ব্যবস্থা চালু, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার, বন্ধ শিল্প চালু, ন্যায্যমূল্যে খাবার সরবরাহ, স্থায়ী শ্রমিক ও কর্মচারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতসহ শ্রমিক সমাজের ভাগ্যোন্নয়নে নানান কর্মসূচি ও নীতি গ্রহণ করেছে।’

এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ‘শ্রমজীবী মানুষই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের শ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও অর্থনীতির ভিত।’ 

বাণীতে তিনি ১৮৮৬ সালের হে মার্কেট আন্দোলনে শ্রমিকদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, ‘শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।’

শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণে তার নেওয়া উদ্যোগগুলো দেশের অর্থনীতির ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে।’ বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমবাজার সৃষ্টিতে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান আরো বলেন, ‘শ্রম আইন সংস্কার, মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠনসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে।’ পোশাক খাতের শ্রমিকদের কল্যাণেও নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুসমর্থন করেছে এবং সংস্থাটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মে দিবসে নানা আয়োজন

মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশে নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, র‌্যালি, সমাবেশ এবং আলোচনা সভা প্রভৃতি।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আজ বিশাল সমাবেশের আয়োজন করেছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। জুমার নামাজ শেষে এই সমাবেশ শুরু হবে। এছাড়াও সারা দেশে বিএনপি ও তাদের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও নানা কর্মসূচি নিয়েছে। জামায়াতপন্থি শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন আজ পৃথকভাবে সমাবেশ করবে। জামায়াতে ইসলামপন্থি সংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নানা কর্মসূচি পালন করবে।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান ও টকশো সম্প্রচার করছে।

এমআর