নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ মে ২০২৬, ১২:১২ এএম
জাতীয় সংসদের সংসদ নেতা ও বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদ মুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনের ভিত্তিতে এই সংসদ অধিবেশনে বসেছি। প্রায় ১ মাস ২৫ দিন এই অধিবেশনে পরিচালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা ও প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি। এসময় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ মুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনের ভিত্তিতে এই সংসদ অধিবেশনে বসেছি। প্রায় ১ মাস ২৫ দিন এই অধিবেশনে পরিচালিত হয়েছে। দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে এখানে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা সঠিকভাবে বলেছেন সমগ্র বাংলাদেশে এ সংসদের দিকে তাকিয়ে আছেন। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় যত বাংলাদেশি আছে তারা ভবিষ্যতের জন্য এ সংসদের দিকে তাকিয়ে আছেন।
তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার বক্তব্যের শুরুতেই আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে এ দেশের স্বাধীনতা অর্জন করতে গিয়ে যে সকল শহীদ আত্মত্যাগ করেছেন যে সকল মানুষ শহীদ হয়েছেন, আমি স্মরণ করতে চাই ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সকল রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের যে সকল নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন আমি স্মরণ করতে চাই, ২০১৩ সালে শাপলা চত্তরে যে সকল মানুষকে বর্বরভাবে হত্যা করা হয়েছে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি আল্লাহ যাতে তাদেরকে শহীদি মৃত্যু দান করেন।
তিনি আরও বলেন, আমি স্মরণ করতে চাই ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত এই দেশের মানুষের কথা বলা অধিকার রাজনৈতিক অধিকার অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অধিকার যেটা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল সেই অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য যে সকল মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন প্রত্যেকটি মানুষকে আমি স্মরণ করতে চাই, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করতে চাই একই সাথে এই দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় ধরে সকল রাজনৈতিক দল যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী যারা রাজপথে থেকে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এবং সেই রাজনৈতিক দলের যে সদস্যরা বিভিন্নভাবে আহত হয়েছে তাদেরকে শ্রদ্ধার সঙ্গে আজকের এই সংসদ অধিবেশনে আমি স্মরণ করতে চাই।
তিনি বলেন, আজকের এই সংসদ মাননীয় সম্মানিত বিরোধীদলীয় নেতা সঠিকভাবে বলেছেন যে আজকের এই সংসদের দিকে সমগ্র বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে। এই সংসদের দিকে পৃথিবীর প্রতিটি কর্ণারে যেখানেই একজন বাংলাদেশী আছে সম্ভবত প্রত্যেকটি মানুষ এই সংসদের বর্তমান এবং এই সংসদের ভবিষ্যতে তাকিয়ে আছে একটি দৃঢ় প্রত্যাশা আশা নিয়ে।
তিনি বলেন, শুধু কি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেই শহীদদের প্রতি আমাদের কর্তব্য শেষ হয়ে যাবে অবশ্যই নয় মাননীয় স্পিকার যে সকল মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন যে সকল মানুষ আহত হয়েছেন পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, প্রত্যেকটি মানুষের একটি প্রত্যাশা বা একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল এবং সেই প্রত্যাশা সেই আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখেই সেই মানুষটি সেদিন রাজপথে ঝাপিয়ে পড়েছিল এদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। মাননীয় স্পিকার কি ছিল এই মানুষগুলোর প্রত্যাশা বা আকাঙ্ক্ষা খুব সংক্ষেপে যদি বলতে হয় এই মানুষগুলোর প্রত্যাশা ছিল আকাঙ্ক্ষা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ যে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তভাবে কথা বলতে পারবে। আরেকজনের ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখে নিজের মতামতকে প্রকাশ করতে পারবে। এই মানুষগুলোর প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ যেখানে তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী তারা তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে। তাদের জীবন পরিচালনা করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় স্পিকার আমি আবারও বিরোধীদলীয় নেতার সাথে একমত প্রকাশ করছি। উনি উল্লেখ করেছেন উনার বাবা একজন কৃষক ছিলেন। এবং কৃষক থাকা কালীন অবস্থায় কি এরকম সমস্যা ফেস করেছেন এই দেশের কৃষক। সেটি সেই সময় হোক, এটি বর্তমান সময়ে হোক মাননীয় স্পিকার এই সকল বিষয়গুলো উনারা যেমন দেখেছেন এই সকল বিষয়গুলো আমরা এখানে উপস্থিত প্রত্যেকটি মানুষ প্রত্যেকটি সংসদ সদস্য আমরা দেখেছি আমাদের পরিবারে বর্তমানেও কেউ না কেউ প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত।
সংসদ নেতা বলেন, আমরা ১২ তারিখে নির্বাচন হোক, ১৯৯১ সালের নির্বাচন হোক, ২০০১ সালে নির্বাচন হোক, ১৯৯৬ সালে নির্বাচন হোক, প্রতিটি নির্বাচনে এখানে উপস্থিত প্রত্যেকটি মানুষ আমরা গ্রামে গিয়েছি, কৃষকের কাছে ভোট চেয়েছি, কৃষানীর কাছে ভোট চেয়েছি। সকল প্রকার মানুষের কাছে আমরা ভোট চেয়েছি। আমরা জানি আমাদের কৃষক ভাইদের কি অবস্থা।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় বিরোধী দলের নেতাকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই কৃষকদের এই সমস্যা থেকে বের করে আনার জন্যই আমরা আমাদের ম্যানিফেস্টোতে কৃষক কার্ড রেখেছিলাম। আবারো নির্দ্বিধায় বলতে হবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে শুকরিয়া আদায় করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আল্লাহর রহমত ছিল বলেই বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে আমরা সরকার গঠন করার পরে দ্রুততা সাথে আমরা চেষ্টা করেছি সেই কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। অনেকেই বলতে পারে যে কয়জনকে আপনারা দিয়েছেন কৃষক কার্ড। আমরা দেওয়া শুরু করেছি মাননীয় স্পিকার। পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা কৃষক বলতে যাদেরকে বোঝায় তাদের কাছে ধীরে ধীরে আমরা পৌঁছাবো এবং শুধু কৃষক বলতে সাধারণত আমরা যে বুঝি যে মানুষগুলো শুধু তাই নয় যে ধান ফলায় শুধু সেই কৃষকই নয়। যে ধান ফলায়, যে মৎস চাষ করে, যে গবাদে পশুর চাষ করে প্রত্যেক ধরনের কৃষকের কাছে আমরা পৌঁছাতে চাই। আল্লাহর রহমতে আমরা এই কাজটি শুরু করেছি কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ আমরা শুরু করেছি।
এমএইচএইচ/আরআর