নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
পেট্রোল ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ ছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে পেট্রোলের জন্য দীর্ঘ লাইন আর দেখা যায় না এবং লোডশেডিংও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে একাত্তরের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “৭১-এর ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন রাজারবাগে পুলিশ হত্যা করে বিভীষিকা তৈরি করেছিল, জাতি যখন দিশেহারা, তখন আমরা মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে উজ্জীবিত হয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক হলো, তখন গোলাম আযমসহ কিছু রাজনীতিবিদ টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক করে বাঙালি দমনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন।”
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল এবং পরবর্তীতে গোলাম আযম ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে গভর্নর হাউসে টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করেন। তারা শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠন করে মুক্তিকামী বাঙালিদের ওপর অপরাধ চালিয়েছে। এটা ইতিহাসের ধ্রুব সত্য।”
ইকবাল হাসান বলেন, ৭১ বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের গর্বের জায়গায়, ৭১ না হলে আমরা আজকে এই পার্লামেন্টে বসতে পারতাম না। ৭১ না হলে আমরা কেউ সংসদ সদস্য হতে পারতাম না। ৭১ না হলে আপনার এই দেশের মন্ত্রী হতে পারতাম না। তাই আমি বলব যারা বলেন ৪৭। ৪৭ তো আমার সবচেয়ে বেশি অহংকার করার কথা।
তিনি বলেন, উনারা অনেক সময় বলেন ৪৭ এর বলিদান। উনারা তো ৪৭ কে মানেন নাই। ৭১ কেও মানেন নাই ৪৭ কে মানেন নাই। কিন্তু আজকে ৪৭ কেন উনারা নিয়ে আসেন আমি বুঝি না।
জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “কিছুদিন আগেও পেট্রোল ও বিদ্যুৎ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ছিল। বিরোধী দলের সদস্যরাও এ নিয়ে কথা বলেছিলেন। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এখন আর পেট্রোলের লাইন নেই, বিদ্যুতের লোডশেডিংও অনেক কমে গেছে। আমরা সরকারি ও বিরোধী দল মিলে কমিটি করেছি, দেশটাকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা নিরলস কাজ করছি।”
মন্ত্রী বলেন, “নাহিদের মতো তরুণরা যখন সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলে, তখন আমার নিজের তরুণ বয়সের আন্দোলনের কথা মনে পড়ে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেমন তলাবিহীন ঝুড়ির দেশটাকে উন্নয়নের মডেলে পরিণত করেছিলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বেও আমরা এই দেশটাকে নতুন বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। তারেক রহমান যা বলেন, তা-ই করেন।”
এমএইচএইচ/এআর