নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
ধলেশ্বরী নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, নদীর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা দূষণকারী ইটভাটাগুলো বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে জোরদার করা হয়েছে মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট অভিযান। ধাপে ধাপে এসব ইটভাটা বন্ধের মাধ্যমে নদীর পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের টেবিল উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, নারায়ণগঞ্জ-৪ নির্বাচনী এলাকার আওতাধীন ধলেশ্বরী নদীর দুইপাড়ে অবস্থিত ইটভাটার দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক নিম্নলিখিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ নির্বাচনী এলাকা জেলার সদর থানার ২টি ইউনিয়ন ও ফতুল্লা থানার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এখানে ১১১টি ইটভাটা রয়েছে। তন্মধ্যে ৭৮টি ইটভাটা ধলেশ্বরী নদীর দুইপাড়ে অবস্থিত।
ইটভাটা সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তর ধলেশ্বরী নদীর দুই পাড়ের ইটভাটাসমূহ বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক দূষণকারী ইটভাটাসমূহের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। গত জানুয়ারি ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে ধলেশ্বরী নদীর দুইপাড়ের অবৈধভাবে পরিচালিত ৩৬টি ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনাপূর্বক ৮টি ইটভাটা সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে এবং ৬৮ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
এছাড়াও ইটভাটা সৃষ্ট দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পোড়ানো ইটের পরিবর্তে দেশব্যাপী পরিবেশ বান্ধব ব্লকের প্রচলনে পরিবেশ অধিদপ্তর কাজ করছে। পোড়ানো ইটের ব্যবহার হ্রাস করার লক্ষ্যে সকল সরকারি নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার কাজে ভবনের দেয়াল ও সীমানা প্রাচীর, হেরিংবোন বন্ড রাস্তা এবং গ্রাম সড়ক টাইপ- 'বি' এর ক্ষেত্রে ইটের বিকল্প হিসাবে ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে ১০০ ভাগ ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ব্লকের প্রচলন করা গেলে নারায়নগঞ্জ-৪ সহ সারাদেশে পোড়ানো ইটের চাহিদা হ্রাস পাবে, ফলে ইটভাটার সংখ্যাও কমবে।
এমএইচএইচ/এআর