নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
রাজধানী ঢাকায় মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই আবারও জলাবদ্ধতার চেনা চিত্র ফিরে এসেছে। হাঁটু থেকে কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকা। অনেক জায়গায় পানি ঢুকে পড়েছে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে গণপরিবহন কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা, যাদের বাধ্য হয়ে পানির মধ্যেই হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়েছে।
গত সোমবার থেকেই রাজধানীতে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে আজ ভোর থেকে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা মৌসুমের শুরুতেই নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট করে দেয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, সবুজবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে গেছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে যানচলাচল ব্যাহত হয়।
আরও পড়ুন: বৃষ্টিতে যাত্রী কম, পরিবহনও কম- তবে বাড়তি ভাড়ায় ভোগান্তি
মিরপুর ১০ এলাকার বাসিন্দা আরমান খান বলেন, ভোর থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছিল, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তাঘাট ডুবে যায়। বাসা থেকে বের হয়ে দেখি হাঁটু সমান পানি। গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অফিসে যেতে অনেক ভোগান্তি হয়েছে। প্রতি বছর একই সমস্যা, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান চোখে পড়ে না।

মিরপুর ১ নম্বর এলাকায় দুপুরের পর সড়কে হাঁটুর ওপরে পানি জমে। স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছরই একই অবস্থা। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা ডুবে যায়। বের হওয়া দায় হয়ে পড়ে। অনেক বাসাবাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে।
মোহাম্মদপুরের বসিলা রোডেও দীর্ঘ সময় পানি জমে ছিল। এ সময় রিকশা ও সিএনজি চলাচল কমে যায়। ফলে অনেকেই হেঁটে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন। সেখানে কথা হয় অফিসগামী রাকিব হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দুপুরে অফিস থেকে বের হয়ে দেখি রাস্তা পানিতে ভরে গেছে। গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে প্যান্ট গুটিয়ে হেঁটে যেতে হয়েছে।’

রামপুরা ও বাড্ডা এলাকায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। কয়েকটি স্থানে ড্রেন উপচে পানি সড়কে উঠে আসে। এতে যানবাহন চলাচল ধীর হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। অনেক জায়গায় পানিতে গাড়ি বিকল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

জলাবদ্ধতার কারণে গণপরিবহন সংকটও প্রকট হয়ে ওঠে। বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীরা পড়েন বিপাকে। অনেক পরিবহন পানি জমার কারণে রুট পরিবর্তন করে, ফলে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ সুযোগে কিছু রিকশা ও সিএনজি চালকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ভাড়া ৫০-৬০ টাকা, সেখানে দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করা হয়। যাত্রীরা বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়া দিয়ে চলাচল করেন।

এদিকে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। ড্রেনেজ উন্নয়ন, খাল পুনঃখনন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক সংস্থা কাজ করছে। তবে বাস্তবে তার সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ নগরবাসীর।
এএইচ/এমআই