জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেছেন, অন্তবর্তীকালীন সরকার তড়িঘড়ি করে নতুন ব্যাংক নোট ছাপিয়েছে। নতুন ব্যাংক নোটে নকশায় ত্রুটি থাকায় বাজারে জালনোটের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
মঙ্গলবার (২৮এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে জালাল উদ্দিন এসব বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জালাল উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে তড়িঘড়ি করে নতুন ব্যাংক নোট ছাপানোর ফলে সমস্যা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে নোটের নকশায় ত্রুটি-নিম্নমানের গ্রাফিক্স, যথাযথ নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। সিকিউরিটি ফিচারে সামঞ্জস্যহীন বিন্যাস এবং যথাযথ অবস্থান না হওয়ায় ব্যাংক নোটে পরিপূর্ণতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে অতিসহজে নোটগুলো জাল করা সম্ভব বিধায় বাজারে উদ্বেগজনক হারে জালনোট বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিনিয়ত কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হচ্ছে।
এই সংসদ সদস্য বলেন, গত ১৫ এপ্রিল সদরঘাট থেকে ৪০ লাখ টাকা জালনোট উদ্ধার হয়েছে, ১২ এপ্রিল গুলশান থেকে ৫০ লাখ টাকার জালনোট জব্দ হয়েছে। জাল নোটের মহৎসব হলো- কোরবানির গরুর হাটে। ব্যস্ত বাজার, পাইকারী মার্কেটে , কাঁচাবাজার, মাংসের দোকানে এবং যেখানে স্বল্প সময়ে দ্রুততম লেনদেন হয়। বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল, রেলস্টেশন, সীমান্ত এলাকায় ছোট ছোট মুদি দোকানগুলোতে , গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে সন্ধার সময় আলোকবিহীন এলাকা এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মাঝে জাল নোট ব্যবহার হয়। এতে করে জনগণের মধ্যে ক্রমান্বয়ে ব্যাংক নোটের প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে। প্রতিটা মানুষ ভুক্তভোগী। এর ফলে নতুন ব্যাংক নোট বিতরণে অনাগ্রহ চলছে। সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কমাসহ অর্থনীতি একটি ঝুঁকির মধ্যে ধাবিত হচ্ছে।
সংসদে জালাল উদ্দিন বলেন, নতুন নোটের ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণ কি? এমন তো নয় এবারই প্রথম ব্যাংক নোট ছাপানো হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকশালে ৪০ বছরের অধিক সময়ে ব্যাংক নোট মুদ্রণ হচ্ছে। তবে কেন এই অবস্থা? এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত, স্বল্প সময়ে ব্যাংক নোট মুদ্রণ, নকশায় অপরিপক্কতার ছাপ, নোট মুদ্রণের বাঁকে বাঁকে রয়েছে ভিন্ন পথ ও মতের ব্যক্তিদের কারসাজি।যারা এখনো অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে অর্থনীতিকে খারাপ দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ফ্যাসিস্ট সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়েছে দাবি করে জালাল উদ্দিন বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার অবৈধভাবে ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়েছিল। ফলে দেশের মুদ্রাস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষের কষ্ট ও ভোগান্তি বেড়েছে। যখন ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজ ভাণ্ডার শূন্যের কোঢায়, তখন ৬০ হাজার কোটি টাকা মসনদ টিকিয়ে রাখতে ব্যবহার হয়েছিল। এই টাকা ব্যবহার হয়েছিল ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে বন্ধ করার লক্ষে। নির্বিচারে গুম-খুন গুলি বর্ষণের পেছনে অর্থ যোগান দিয়েছিল ওই ৬০ হাজার কোটি টাকা। এদের আইনের আওতায় আনতে হবে। জাল টাকার বিস্তার, ব্যাংক লুট এবং নতুন নোট বিতরণ একই সুতায় গাঁথা।
বিইউ/ক.ম