images

জাতীয়

ঢাকার নীরব এলাকায় দ্বিগুণের বেশি মাত্রার শব্দ উৎপন্ন: গবেষণা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

বিধি অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক এলাকাকে নীরব এলাকা বলা হলেও এসব এলাকায় মানমাত্রার থেকে দ্বিগুণের বেশি শব্দ উৎপন্ন হচ্ছে। ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিইং বাংলাদেশের’ এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সচেতনতামূলক এক ক্যাম্পেইনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে শব্দ দূষণের মাত্রা অত্যন্ত বেশি, যা স্বাভাবিক শব্দ ডেসিবেলের হিসেবে ১২০ থেকে ১৩২ এর মাঝে ওঠা-নামা করে। শব্দ দূষণের অন্যতম কারণ- গাড়ির হর্ণ, ইটভাঙ্গার মেশিন, জেনারেটর, কলকারখানার সৃষ্ট শব্দ, বাদ্যযন্ত্রের শব্দ। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য তুলে ধরে ক্যাম্পেইনে আরও জানানো হয়, ৩০টি কঠিন রোগের কারণ ১২ রকমের পরিবেশ দূষণ, যার মধ্যে শব্দদূষণ অন্যতম। শব্দদূষণের কারণে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, মাথা ব্যাথা, খিটখিটে মেজাজ, অমনোযোগ, ঘুমে ব্যাঘাত, স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হ্রাসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে শব্দদূষণে ছাত্র-ছাত্রী, শিশু, হাসপাতালের রোগী, ট্রাফিক পুলিশ, পথচারী এবং গাড়ির চালকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ক্যাম্পেইনে বিশেষজ্ঞরা বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন, সচেতনতা ও নাগরিক অংশগ্রহণের সম্মিলিত প্রয়াস জরুরি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৭, ৩৩, এবং ৩৪ ওয়ার্ডের নয়টি স্কুল এবং একটি হাউজিং সোসাইটিতে মাসব্যাপী সচেতনতামূলক এই ক্যাম্পেইন আয়োজন করা হয়েছে। স্কুলগুলো হলো- ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল, ধানমন্ডি কচিকন্ঠ হাই স্কুল, লোটাস ন্যাশনাল স্কুল, লরেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইম্পেরিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শের-ই-বাংলা আইডিয়াল স্কুল, স্কুল অফ লাইফ, আলফা বাংলা হাই স্কুল ও বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুল। 

শব্দ দূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে আমেরিকার সেন্টার ফর হিয়ারিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন (সিএইচসি) কর্তৃক ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতি বছর এপ্রিল মাসের চতুর্থ সপ্তাহের বুধবারে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস পালিত হয়।

এএম/ক.ম