নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এখনই ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎসের দিকে যেতে না পারলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হবে। ভূগর্ভস্থ পানি নয়, এখনই ভূ-উপরিস্থ পানির দিকে যেতে হবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়াল, ইউনিসেফের প্রতিনিধি স্ট্যানলি গাভাভুয়া এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে আরো জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা শহরের পানি ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো, নদী ও জলাধার সংরক্ষণ এবং আধুনিক পানিশোধন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, নিরাপদ পানি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বিদ্যমান। শহরের নিম্নবিত্ত ও বস্তিবাসীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হন, যা একটি মানবিক ও উন্নয়নগত চ্যালেঞ্জ। এ বৈষম্য দূর করতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে সচিব মো. শহীদুল হাসান বলেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের নানা অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানাই।
অনুষ্ঠানে বক্তারা পানি দূষণ রোধ, নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়।
এএইচ/এফএ