images

জাতীয়

প্রেম করে বিয়ের পর প্রতারণা, স্ত্রীর ওপর নির্যাতন শিক্ষকের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম

টানা কয়েক বছর ফোনে কথা, প্রেম, এরপর বিয়ে। প্রথম প্রথম ভালোই চলছিল সংসার। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে তোলা অন্তরঙ্গ ছবি স্ত্রীর বন্ধুসহ বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনকে পাঠাতে শুরু করেন স্বামী আজিজুর রহমান অপু। 

পেশায় কলেজ শিক্ষক অপুর এমন কর্মকাণ্ড দেখে ফেলেন স্ত্রী। প্রতিবাদ করে জানতে চান, কেন এসব করছেন। এরপর শুরু হয় স্বামীর নির্যাতন। অগত্যা মামলা করেন। পর্নগ্রাফি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলায় কারাগারে যান কলেজ শিক্ষক অপু। 

পরে স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করবেন- এই মর্মে জামিন মেলে তার। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়েই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। এখন মামলা করে বড় বিপদে নির্যাতিতা স্ত্রী শেফালি আক্তার। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি। অবিলম্বে অপুর বিচার দাবি করেছেন তিনি।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন স্ত্রী শেফালী আক্তার। 

ভুক্তভোগী শেফালীর বাড়ি রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায়। তিনি সরকারি তিতুমীর কলেজে পড়াশোনার সময় মোবাইল ফোনে পরিচয় ঘটে অপুর সঙ্গে। এরপর প্রেম ও বিয়ে হয় তাদের। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয় সুনামগঞ্জ ধর্মপাশা মহদীপুরের অপুর সঙ্গে। নানা কথাবার্তার এক পর্যায়ে প্রথমে প্রেম পরে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পর তারা ঢাকার মিরপুরে বাসা ভাড়া করে থাকতেন। সংসার জীবনকে সুচতুর অপু টাকা হাতানোর টার্গেটে পরিণত করে। প্রথমে শেফালীর বাবার জমিজমা টার্গেট করে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে তার জমানো টাকা নিতে শুরু করেন অপু। টাকা না দিলে তাকে মারধর করতেন তিনি।  এমনকি শারীরিক নির্যাতনও চালাতেন। 

5
ডিআরইউতে সংবাদ সম্মেলন করার সময় কেঁদে ফেলেন ভুক্তভোগী শেফালী

অপু তার মোবাইল ফোনের হোয়াটসআপ, ফেসবুক, ইমো, ভাইবারের মাধ্যমে তার বিভিন্ন বন্ধুদের শেফালীর সঙ্গে নিজের অন্তরঙ্গ ছবি পাঠান। যেগুলো পরে তিনি মুছে ফেলেন। কিন্তু বিষয়টি অপুর মোবাইল চেক করে দেখতে পান শেফালী। পরে তিনি এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন। এরপর তার ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়ক। শেষমেশ অসহায় শেফালী অপুর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্নগ্রাফি আইনে মামলা করেন। সে মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে দেখতে পায়, অপু যে নম্বরটি দিয়ে শেফালীর সঙ্গে কথা বলতেন সেই সিমটি তার মামাতো ভাইয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে তোলা। যার প্রমাণাদি অপুর ব্যবহৃত মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

এরপর অপুকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে যাওয়ার পর আদালতে অপু জানা, তিনি আবারও সংসার করবেন এবং শেফালীকে কোনো ধরনের নির্যাতন করবেন না। কিন্তু জামিনে বের হয়েই শেফালীকে তালাক দেন। এরপর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ দেন। এখন মামলা করে উল্টো হুমকিতে আছেন শেফালী।  

শেফালী জানান, ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী প্রভাষক অপু। মামলা ও তালাকের পর অপুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শেফালী অপুর কলেজের প্রিন্সিপাল, মাউশির প্রধান কাযালয় ছাড়াও ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ইউএনও এবং সেখানকার সেনাবাহিনীর বরাবারেও অভিযোগ দেন। কিন্তু কোথাও কোনো প্রতিকার পাননি। এখন তিনি বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তিনি মাউশিতে অপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অপুর কাছ থেকে টাকাপয়সা নিয়ে তার কলেজের এমপিও করিয়েছে বলে অভিযোগ শেফালীর। 

তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত টাকা না দিলেই মারধর করতো অপু। তার বিয়ের আগে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক করতো। এমনকি আমার অন্তরঙ্গ ছবি ছড়িয়ে আমাকে খারাপ বলে প্রচার চালানোর পরিকল্পনাতেও ছিল সে। তাকে তার কলেজ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও বেতন বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। 

তার আরও দাবি, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক পেশাজীবী নিয়োগের আগে ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বাধ্যতামূলক করা হোক। এই ধরণের অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও শান্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। পেশাগত দায়িত্ব পালনে আবার একই ধরনের ঘটনা না ঘটার জন্য কেন্দ্রীয় রেজিস্ট্রি লাইফ টাইম নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা করা হোক।

এমআইকে/এএইচ