জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
বাংলাদেশে খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে খাদ্যপণ্যের মোড়কের সামনের অংশে (ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং) সহজবোধ্য পুষ্টি তথ্য ও লেবেল প্রদর্শন চালুর লক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের আয়োজনে ও গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য বৈশ্বিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ, রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুধাবন, সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহ চিহ্নিত করা এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন।
কর্মশালায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ এবং রিডিউসিং ডিমান্ড ফর আনহেলদি ফুডের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস।
এসময় তারা বলেন- ইতোমধ্যে বিশ্বের ৪৪টি দেশে ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং চালু হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি দেশে এটি বাধ্যতামূলক। এসব দেশে ভোক্তাদের খাদ্য নির্বাচনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ কমেছে। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে উদ্যোগী হয়েছে।

বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং আইইডিসিআর-এর সাবেক উপদেষ্টা ডা. এম মুশতাক হোসেন বলেন, ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং কেবল একটি লেবেলিং পদ্ধতি নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ। এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত চিনি, লবণ (সোডিয়াম), স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স-ফ্যাটসমৃদ্ধ অতি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণের ফলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও স্থূলতাসহ অসংক্রামক রোগ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০–৭১ শতাংশই এসব রোগের কারণে ঘটে।
পলিসি এক্সপার্ট তাইফুর রহমান বলেন, প্যাকেটজাত খাদ্যের পেছনের জটিল পুষ্টি তথ্য অধিকাংশ ভোক্তার জন্য বোধগম্য নয়। দেশে প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাদ্য গ্রহণ করলেও সঠিক তথ্যের অভাবে তারা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এ প্রেক্ষাপটে মোড়কের সামনের অংশে সহজ, স্পষ্ট ও সতর্কতামূলক পুষ্টি তথ্য প্রদর্শন ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহবুবা রহমানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন, সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য নীতি বিশেষজ্ঞ এ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার আমিনুল ইসলাম সুজন, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান, ইয়ুথ পলিসি ফোরামের সিনিয়র অফিসার সাদ ইবনে ওয়ালিদ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মোঃ বজলুর রহমান, বাংলাভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর আবু রুশদ মো. রুহুল আমিন, একাত্তর টিভির চেফ রিপোর্টার শাহনাজ শারমিন, স্পেশাল করেসপেন্ডন্ট সুশান্ত সিনহা এবং আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ।
এসময় অংশগ্রহণকারীরা দলীয় কাজের মাধ্যমে নীতিনির্ধারক, রাজনৈতিক নেতা, সম্ভাব্য সমর্থক ও বিরোধী পক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের চিহ্নিত করেন এবং তাদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করেন। রাজনৈতিক মানচিত্রায়ন, স্বার্থের দ্বন্দ্ব বিশ্লেষণ, অংশীদার সম্পৃক্তকরণ এবং যৌথ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও আগামী ছয় মাসের জন্য একটি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়।
এমআইকে/এএইচ