images

জাতীয়

‘হকার পুনর্বাসনে প্রস্তুত হচ্ছে ৬ মাঠ, থাকতে হবে নিবন্ধন’

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

ঢাকার ফুটপাতের হকারদের পুনর্বাসনে ছয়টি খোলা মাঠে অস্থায়ী মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। 

সংস্থাটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, নির্ধারিত এসব স্থানে নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের বসানো হবে এবং একটি নির্দিষ্ট ফি আদায়ের মাধ্যমে স্থানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) গুলশানের একটি হোটেলে ‘ঢাকা কি মৃত নগরী হতে যাচ্ছে? সমাধানে করণীয়’ শীর্ষক এক নগর সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। 

নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ আয়োজিত এ সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহ।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটপাতে আগে যেখানে ২০০ হকার ছিল, এখন তা বেড়ে প্রায় দুই হাজারে দাঁড়িয়েছে, ফলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অল্পসংখ্যক মানুষের কারণে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ভোগান্তিতে পড়ছে, এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তাই হকারদের নির্দিষ্ট জায়গায় বসতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময় শেষে দোকান সরিয়ে নিতে হবে। দোকানগুলো ট্রলির আদলে হতে হবে, কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, নগরের ব্যবস্থাপনায় নেওয়া বেশিরভাগ উদ্যোগই সাময়িক, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। ওয়াসা, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ সেবা সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে একটি কর্তৃপক্ষের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধন ও খাল পরিষ্কারে জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মিরপুরের প্যারিস খাল গত দুই মাসে সাতবার পরিষ্কার করা হলেও আবার নোংরা হয়ে যাচ্ছে। খালের পাড়ে বর্জ্য ফেলায় জড়িতদের জরিমানার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংলাপে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইমনের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নগর অধিকারকর্মী ও গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত। 

তিনি বলেন, ঢাকা শহর একটি গভীর সংকটের মুখে রয়েছে, যা একে কার্যত মৃত নগরীর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। চারপাশের নদীগুলো দখল ও দূষণে অকার্যকর হয়ে পড়ায় শহরটি দূরবর্তী মেঘনা নদীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রশাসক আরও বলেন, বায়ুদূষণ সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি এবং শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, নেতৃত্বের সক্ষমতা, জবাবদিহিতা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, নগর সেবাগুলো এক ছাতার নিচে আনা গেলে সমন্বয়হীনতা কমবে এবং সেবার মান বাড়বে। তথ্যের ঘাটতির কারণে অনেক সময় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে।

কড়াইল বস্তি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ না করে বস্তিবাসীদের বর্তমান অবস্থান বজায় রেখেই নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কারণ বাসিন্দারা বহুতল ভবনে যেতে আগ্রহী নন।

তিনি আরও বলেন, যানজট নিরসনে পার্কিং স্পেস উদ্ধারে কাজ চলছে এবং যেসব ভবনে পার্কিং স্থানে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পূর্বাচল প্রকল্পকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর হাছিন আহমেদ বলেন, বিভিন্ন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণাধীন থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতায় কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। অনেক প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ সময় নিচ্ছে। বর্তমানে মেঘনা, শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদী থেকে প্রায় ৫১ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। প্রয়োজনে বঙ্গোপসাগর থেকেও পানি আনার চিন্তা রয়েছে।

স্থপতি সুজাউল ইসলাম খান বলেন, পরিকল্পনা শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। রাজধানীর অধিকাংশ সুবিধা অল্পসংখ্যক মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ, অথচ বস্তি এলাকায় সেই সুবিধা পৌঁছায়নি।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম বলেন, নগরের গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য ২০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। বাস রুট সংখ্যা ৪২ থেকে কমিয়ে ৩২টিতে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি রুটে একটি করে কোম্পানির বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে শৃঙ্খলা ফিরবে।

সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান এবং পরিবেশবিদ আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এএইচ/এএইচ