images

জাতীয়

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণের পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে সর্বোচ্চ সাত মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টির সক্ষমতা থাকা ফল্ট লাইনগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। অথচ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নেই। এ অবস্থায় ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে রাজউকের একক নির্ভরতার বাইরে গিয়ে ভবন নির্মাণ তদারকিতে তৃতীয় পক্ষ যুক্ত করার কথাও উঠে এসেছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর ডিআরইউতে পেশাজীবী সংগঠন পেপার্স আয়োজিত ‘ভূমিকম্প: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশে সাত মাত্রার কাছাকাছি ভূমিকম্প সৃষ্টির মতো সক্রিয় ফল্ট রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর ও পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি বলেন, ভূমিকম্পের গভীরতা ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা মাটি ও জনবসতির ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নে জনসচেতনতা জরুরি।

বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক স্থপতি ড. খন্দকার সাব্বির আহমেদ বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় বিল্ডিং কোডই কার্যকর রক্ষাকবচ। এ ক্ষেত্রে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভূমিকম্প পূর্বাভাসের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারি বলেন, ভবন অনুমোদন ও নকশা যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া রাজউকের ওপর নির্ভরশীল। তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তদারকির ব্যবস্থা থাকা উচিত।

তিনি বলেন, ভবন নির্মাণে রাজনৈতিক পর্যায়ে সঠিক দিকনির্দেশনা জরুরি। ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমে বেশি ব্যয় হলেও প্রতিরোধমূলক নির্মাণে যথাযথ বিনিয়োগ দেখা যায় না।

তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে ভবনের ভেতরে নিরাপদ অবস্থান সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রকৌশলী ও স্থপতিদের প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে।

এআর