নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কৃষি উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী ১ মে থেকে কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার উত্থাপিত সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, যদিও বিদ্যুতের উৎপাদনে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তারপরে দেশের কৃষির কথা চিন্তা করে আমরা ১ মে তারিখ থেকে ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতে গ্যাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এলাকায় ঘরে ঘরে নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়ার প্রস্তব উত্থাপন করেন।
এই প্রস্তাবে উপর বক্তব্যে জ্বালানী মন্ত্রী বলেন, '২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশে গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রেসার কমে যাওয়ার ফলে এখন যেসব বাড়িঘরে বিদ্যুৎ গ্যাসের লাইন আছে এবং যেসব ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে লাইন আছে সেসব জায়গায় প্রেসার কমের জন্য সরবরাহ কমে গেছে। সেইজন্য আমরা এখন শুধু উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে যতখানি পারছি গ্যাস সরবরাহ করছি।'
তিনি আরও বলেন, 'বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বাংলাদেশের গ্যাস উত্তোলনের জন্য কোনরকম অনুসন্ধান করেনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা বাপেক্সকে শক্তিশালী করে অনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করেছি। যদি এই অনুসন্ধানে সফলকাম হই, আশা করি যেসব গ্যাস কানেকশন দেওয়া আছে সেসব জায়গায় কানেকশন দিতে পারব। প্রেশারও দিতে পারব।'
মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রুমিন ফারহানা বলেন, 'গত ১৫ বছরে আসলে কোন রকম জ্বালানির অনুসন্ধান হয়নি। বাপেক্সকে শক্তিশালী করাও হয়নি। কিন্তু সুখবরও আছে। তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের ১১কিলোমিটার এলাকায় ৯টি স্থানে ২৭টি কূপ রয়েছে। এরমধ্যে ২২টা কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। এইসব কুপ থেকে দৈনিক গড় ৩৩৩.৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হয়েছে, এটি আমার ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে।'
তিনি আরও বলেন, এই মাসের ১৯ তারিখ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডে নতুন গভীর কূপ অনুসন্ধানের নতুন গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন শুরু হয়েছে। যা থেকে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ৫.৬ কিলোমিটার গভীর কুপটি খননে প্রায় সাত মাস সময় লাগবে। এটি দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় একটি বড় ভূমিকা রাখবে।
রুমিন ফারহানা বলেন, গ্যাসের অভাবে আশুগঞ্জ সার কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেছে। সার কারখানাটিতে গ্যাস দিয়ে কারখানাটি চালুর দাবি জানান।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে একটা সুখবর দিতে চাই যে, যদিও বিদ্যুতের উৎপাদনে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারপরেও দেশের কৃষির কথা চিন্তা করে আমরা এক তারিখ থেকে ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতে গ্যাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
এমএইচএইচ/এআর