নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
দীর্ঘ এক দশক পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবার সন্দেহভাজন কোনো আসামি গ্রেফতার হওয়ায় খুশি তার বাবা-মা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে তনুর মা বলেন, ‘১০ বছর পর ধরা পড়লো এক আসামি। তো আশা করছি এবার বিচারটা পামু। তারা আমার মেয়েকে যেমনে হত্যা করেছে, আমিও চাই তেমনি তাদের শাস্তি হোক। ফাঁসি চাই তাদের। দেশবাসীও যাতে কইতে পারে, তনু হত্যায় তাদের ফাঁসি হইছে।’
এদিন আদালতে উপস্থিত তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা খুব খুশি। এক আসামিকে গ্রেফতারের দৃশ্য দেখলাম, কাঠগড়ায় দেখলাম। সাত দিনের রিমান্ড চাইলো। আমি বিচার চাই, দেশবাসীও বিচার চায়।’
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান। তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার। তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বিকালে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।
সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
এর আগে হাফিজুর রহমানকে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে কুমিল্লার আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজন—তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসের সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক জাহাঙ্গীর ওরফে জাহিদের ডিএনএ নমুনা ম্যাচিংয়ের আবেদন করেন। আদালত এতে সম্মতি দিয়েছেন। ২০১৭ সালে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিন জন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।
এআরএম