জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
যাত্রী সাধারণের প্রতিনিধিত্ব বা দরকষাকষি বাদ দিয়ে বাস, লঞ্চ ও অন্যান্য গণপরিবহনের একচেটিয়া ভাড়া নির্ধারণের পাঁয়তারা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেলে আনুপাতিক হারে বাস, লঞ্চ ও অন্যান্য গণপরিবহনের ভাড়া বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্ত বাস ও লঞ্চ মালিক সমিতি সরকারের কিছু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে যাত্রী সাধারণের প্রতিনিধিত্ব বা দরকষাকষি বাদ দিয়ে একচেটিয়া ভাড়া নির্ধারণের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে লুকোচুরির অভিযোগও তুলেন তিনি। মোজাম্মেল হক বলেন, জনস্বার্থের ভাড়া নির্ধারণে কেন লুকোচুরি করা হবে। কেন মিডিয়া থেকে গোপন করা হবে।
তিনি বলেন, বাড়তি ভাড়া নিয়ে বাস-লঞ্চে হেনস্থা ও লাঞ্চিত হয় যাত্রীরা, কিন্তু এই ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ যাত্রী সাধারণের প্রতিনিধিত্ব বাদ দিয়ে একচেটিয়া ভাড়া নির্ধারণের পায়তাঁরার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
গণপরিবহনের ভাড়া কত বাড়ানো যেতে পারে সেই হিসেব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, অতি সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য তিনদফা কমার প্রেক্ষিতে প্রতি ১ টাকায় ১ পয়সা হারে বাস ভাড়া কমানো হয়েছে। একই সূত্র ধরে এবার প্রতি লিটারে ১৫ টাকা মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাস ভাড়া কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ১৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে।
ভাড়া এরবেশি বাড়ানো হলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলেও জানান তিনি। এসব বিষয় সুরাহার জন্য তিনি সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনাও করেন।
জনদুর্ভোগ নিরসনে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মোজাম্মেল হক বলেন, পরিবহণ খাতে ভাড়া নির্ধারণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে মালিকদের একচেটিয়া আধিপত্য, তথ্যের কারচুপি এবং অব্যবস্থাপনার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, যাত্রীবাহী যানবাহনের আসন সংখ্যার ভুল হিসাব, লক্কড়-ঝক্কড় বাসের অস্বাভাবিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও মিথ্যা ব্যাংক সুদ দেখিয়ে ভাড়ার হার কৃত্রিমভাবে বাড়ানো, চালক-সহকারীদের বেতন-বোনাস বা বাসের বীমার নামে কাগজে-কলমে খরচ দেখানো হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন না থাকা, সিএনজি ও ডিজেলচালিত বাসের ভাড়ার পার্থক্য না মানা, দূরপাল্লার বাসে স্বল্প দূরত্বে পুরো ভাড়া আদায়, ভাড়ার তালিকা প্রকাশ না করা, বৃষ্টি বা ছুটির দিনে মর্জিমতো বাড়তি টাকা নেওয়া এখন নিয়মিত নৈরাজ্যে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি তদারকি কমিটিতে যাত্রী সাধারণের প্রতিনিধি না থাকায় এবং নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে মালিক সমিতির একতরফা প্রভাবের কারণে সাধারণ যাত্রীরা পদে পদে প্রতারণা ও জুলুমের শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সংগঠনটি কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুশিয়ারিও দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কনস্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এএম/এআর