নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ০১ কোটি ৩০ লক্ষের অধিক বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছে।’
সোমবার (২০ এপ্রিল) মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন আহমেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। আজ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্ব করেন।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ১ কোটি ৩০ লক্ষের অধিক বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছে। এ সকল বাংলাদেশিদের মর্যাদা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধার মেধাবী সন্তানদের এসএসসি উত্তীর্ণ পরবর্তী ২ বছর পর্যন্ত বছরে ২৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং এইচএসসি উত্তীর্ণ পরবর্তী ৪ বছর পর্যন্ত বছরে ৩৪ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে সহায়তা করা হয়। ২০২৫ সালে ৩ হাজার ৪৮ জনকে ৯ কোটি ৬৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।’
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের কল্যাণে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান-
১. প্রবাসী কর্মীদের প্রশাসনিক, আইনগত এবং কল্যাণমূলক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ২৭টি দেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহের বিদ্যমান ৩০টি শ্রম কল্যাণ উইংয়ের বিভিন্ন খাতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড হতে প্রতি অর্থ বছরে অর্থ বরাদ্দসহ সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ ও লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান করা হয়।
২. প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশিদের মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ আদায় এবং প্রবাসী কর্মীদের আইনি সেবা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন মিশনের শ্রম কল্যাণ
উইংয়ে ২২টি ল’ফার্ম বা প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
৩. পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতায় কর্মীর দেশে আসতে সমস্যা হলে দূতাবাস হতে আউট পাশের ব্যবস্থা করা হয়।
৪. শ্রম কল্যাণ উইং কর্তৃক সংশ্লিষ্ট দেশের বিভিন্ন জেলখানা, ডিটেনশন সেন্টার/ক্যাম্প পরিদর্শন করে আটক কর্মীদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান এবং কারামুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
৫. কর্মীর কর্মস্থল পরিদর্শন করে নিয়োগকর্তার সাথে তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং প্রাপ্য মজুরিসহ অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
৬. বিপদগ্রস্ত নারী কর্মীদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে দেশে ফেরত আনা হয়।
৭. নারী কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয় প্রদানে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস তত্ত্বাবধানে সেইফ হোম স্থাপনও পরিচালনা করা হয়।
৮. কর্মীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ যেমন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শ্রম/জনশক্তি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে নিয়মিতভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়।
৯. বাহারাইনে প্রবাসী বংলাদেশি কর্মীর সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে বাহারাইনস্থ বাংলাদেশ স্কুলে একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
১০. প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী কর্মীর মরদেহ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়েনে দেশে আনয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
১১. প্রবাসী কর্মীদের যে কোনো সমস্যায় সমাধানে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডকে অবহিত করতে "প্রবাসী কল সেন্টার" ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদান করছে।
দেশে প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে-
১. বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কে বিদেশগামী ও ফেরত কর্মীদের লাগেজ, কাগজপত্র, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসসহ সব আনুষ্ঠানিকতায় সহায়তা দেওয়া হয়।
২. প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য ফ্রি WiFi, টিভি, সংবাদপত্র, ফ্রি টেলিফোন এবং ৩০% ডিসকাউন্টে প্রবাসী ক্যাফেতে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।
৩. ৩টি বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে মরদেহ গ্রহণ, পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং পরিবহন ও দাফনে ৩৫ হাজার টাকার সহায়তা দেওয়া হয়।
৪. আহত/অসুস্থ ও মৃত কর্মী পরিবহনে ২টি ফ্রিজিংসহ ৫টি অ্যাম্বুলেন্সে ফ্রি সেবা দেওয়া হয়।
৫. প্রবাস ফেরত আহত/অসুস্থ কর্মীদের সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয় (আগে ছিল ১ লক্ষ)।
৬. প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের ভর্তি সহায়তা ও এইচএসসি/গ্রাজুয়েশন পর্যায়ে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
৭. প্রতিবন্ধী সন্তানদের মাসিক ভাতা ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হয়েছে।
৮. প্রবাসে মৃত কর্মীর পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।
৯. মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ, বকেয়া বেতন/সার্ভিস বেনিফিট ও ইনসিওরেন্সের অর্থ পরিবারকে প্রদান করা হয়।
১০. দেশে প্রবাসী কর্মীর সম্পদ রক্ষা ও সমস্যায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়।
১১. প্রবাসী কল সেন্টারের মাধ্যমে কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়া হয়।
১২. এক হাজার টাকা প্রিমিয়ামে ৫ বছর মেয়াদে ১০ লক্ষ টাকার বীমা সুবিধা দেওয়া হয়।
১৩. হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারে ফ্রি যাতায়াত, সাশ্রয়ী খাবার ও ২০০ টাকায় রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে।
১৪. রেইস প্রকল্পের মাধ্যমে ২ লক্ষ ৫৩ হাজার বিদেশ ফেরত কর্মীকে পুনর্বাসন, ২০ হাজারকে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এমএইচএইচ/এমআই