images

জাতীয়

ইমামের ওপর হামলার অভিযোগ সংসদে, নিরাপত্তা চাইলেন হান্নান মাসউদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ নিজের জন্য দোয়া করাকে কেন্দ্র করে মসজিদের এক ইমামের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে সংসদে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন এবং ইমাম দেড় মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি।

সোমবার (২০ এপ্রিল) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে নোটিশের প্রেক্ষিতে এ অভিযোগের কথা বলেন। তার নোটিশটি গ্রহণ না করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন ডেপুটি স্পিকার।

হান্নান মাসউদ বলেন, `নির্বাচনের আগ থেকেই আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি দ্বীপ অঞ্চলে জন্ম নিয়েছি। এখানে ভূমিদস্যু ও জলদস্যুদের উৎপাত অনেক বেশি। আমি ফেরিতে করে ঢাকায় আসার সময় ডাকাতদল আমাকে আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়েছিল। প্রশাসনের সহায়তায় আমি ফিরে এসেছি।এর আগে আমি দুইবার আক্রমণের শিকার হয়েছি। সরাসরি অস্ত্র নিয়ে আমাকে কোপাতে আসা হয়েছে। ফ্যাসিবাদিরা ভিন্নভাবে আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে এলাকায় ঢুকতে দেবে না বলছে। তাই বাধ্য হয়ে আমি সংসদে নোটিশ দিয়েছি। আমার যে এলাকা সেখানে চলাচলের জন্য নিরাপত্তা দিতে হবে। একজন সংসদ সদস্যকে নিরাপত্তা দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমাকে বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে আমি মনে করি একটা তদন্ত হওয়া দরকার।’

সংসদে তিনি আরও বলেন, আমার গাড়ি বহরে ভোটের দিন হামলা হয়েছে একজন ব্যক্তিও কিন্তু গ্রেফতার হয়নি। আমার গাড়িতে ৬টা কোপের দাগ এখনো আছে। সন্ত্রাসীরা এখনো এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার উপরে পরবর্তীতে হামলা হলে ট্রেজারি বেঞ্চে থেকে দায়িত্ব নেবে কিনা। মামলা জিডি করে আমি এই ব্যাপারে কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।’

হান্নান মাসুদের এই বক্তব্যেও আগে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘মাননীয় সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ তার জানমাল, সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় যে নোটিশটি দিয়েছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বের দাবি রাখে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে গেলে তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা হয় এবং ২৯শে মার্চ সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জেরে তাকে অনলাইনে অশালীন ভাষায় আক্রমণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যের ওপর এ ধরনের হামলা ও হুমকি কোনোভাবেই কাম্য নয়। যদিও কার্যপ্রণালী বিধির ১৬৫(২) ও ১৬৫(৪) উপবিধির কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে নোটিশটি গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না, তবুও বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই প্রেক্ষাপটে তিনি সংসদ সদস্যের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিবেশনে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন।’

ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদের উত্থাপিত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতিটি বিষয় আমি মনোযোগ দিয়ে শুনেছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যদি হামলার এই ঘটনাগুলো সত্য হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সরকার অপরাধীদের ছাড় দেবে না। সংসদ সদস্যকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা বা জিডি করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কেবল এই সংসদ সদস্যই নন, হাউজের যেকোনো সদস্য যদি এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হন বা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে তা যেন তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্থানীয় থানাকে অবহিত করা হয়। সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর এবং সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এমএইচএইচ/এমআই