নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে এবং বর্তমান দৈনিক সরবরাহ (প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট) বজায় থাকলে অবশিষ্ট মজুত গ্যাস দিয়ে প্রায় ১২ বছর দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে শুরু হয়।
লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ ২৯.৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এরমধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২.১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অবশিষ্ট মজুত ৭.৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে এবং বর্তমান কমবেশি দৈনিক ১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ করা হলে ওই অবশিষ্ট ৭.৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদের ভিত্তিতে আনুমানিক ১২ বছর সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পেট্রোবাংলা কর্তৃক কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মপরিকল্পনার আওতায় ৫০ ও ১০০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার পরিকল্পনার আওতায় অদ্যাবধি ২৬টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কূপগুলো খনন এবং ওয়ার্কওভারের লক্ষ্যে কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান রয়েছে।
সাইসমেক সার্ভে অনুযায়ী বাপেক্স কর্তৃক ব্লক-৭ ও ৯ এ প্রায় ৩৬০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক ডাটা আহরণ করে উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলমান রয়েছে। বিজিএফসিএল কর্তৃক হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনার ১৪৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সাইসমিক ডাটা আহরনের কার্যক্রম আরম্ভ হবে।
পাশাপাশি বাপেক্স কর্তৃক ভোলার চরফ্যাশনের ৬৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায়, জামালপুরে ৬৫০ বর্গ কিলোমিটার বিজিএফসিএল কর্তৃক তিতাস, হবিগঞ্জ এবং নরসিংদী সংলগ্ন ৬৩২ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় এবং এসজিএফএল কর্তৃক লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাশটিলা সাউথ এবং ফেঞ্চুগঞ্জ ওয়েস্ট স্ট্রাকচার এ ৮৮২ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সাইসমিক জরিপ সম্পাদনের নিমিত্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সমুদ্রে নতুন গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হবে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, গভীর ও অগভীর সমুদ্রাঞ্চলে নতুন গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং এ লক্ষ্যে শিগগিরই নতুন অফশোর বিডিং রাউন্ড আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ অফসোর বিডিং রাউন্ড ২০২৪"-এর অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) পর্যালোচনার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিসমূহকে অধিকতর আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বিদ্যমান ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৩" হালনাগাদ করার লক্ষ্যে খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রণীত খসড়ার ওপর লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং/মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। এ মতামত বিবেচনায় নিয়ে প্রণীত Draft "Bangladesh Offshore Model PSC 2026" চূড়ান্ত অনুমোদনের পর হালনাগাদকৃত পিএসসির আওতায় গভীর ও অগভীর সমুদ্রাঞ্চলে নতুন গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং এ লক্ষ্যে শিগগিরই নতুন অফশোর বিডিং রাউন্ড আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে।
এমএইচএইচ/এএইচ/এআর