images

জাতীয়

জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধারে জরুরি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার দাবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

‎খাল, জলাশয় ও নদী দখল-দূষণ বন্ধ করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধারে জরুরি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা নেওয়াসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ভয়েস।

‎শনিবার (১৮ এপ্রিল) সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।

‎সমাবেশে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী ও জলাশয় রক্ষা মানে দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করা। সরকার, নাগরিক সমাজ ও তরুণদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পরিবেশ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

‎গ্রীন ভয়েসের উপদেষ্টা স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জলাধার ভরাটের ফলে শহরগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। নগর পরিকল্পনায় খাল, জলাশয় ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকৃতি বাঁচলেই নগর বাঁচবে।

‎সংগঠনের সহ-সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সুমনের সভাপতিত্বে ও সদস্য আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলনের সদস্য সচিব রুস্তম আলী খোকন, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস, গ্রীন ভয়েসের উপদেষ্টা শুভ কিবরিয়া, এটিএম তাহমিদুজ্জামান, সহ-সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম রাতুল, আরিফুর রহমান, মোনছেফা তৃপ্তি, শাকিল কবির, ফাহমিদা নাজনীনসহ অন্যান্য নেতারা।

‎সমাবেশ শেষে একটি র‌্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর থেকে শুরু হয়ে টিএসসি হয়ে শাহবাগ প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। এতে পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা এবং ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

‎সমাবেশ থেকে উত্থাপিত অন্য চার দাবি হলো-
‎১. নবায়নযোগ্য শক্তি, বিশেষত সৌরশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে; বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি না করে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় কমিয়ে জ্বালানি খাতে নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

‎২. ইটভাটা, শিল্পকারখানা ও যানবাহনের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

‎৩. অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, বন উজাড় রোধ এবং কৃষিজমি সংরক্ষণে কার্যকর নজরদারি ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

‎৪. খাদ্যে বিষাক্ত উপাদান নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা চালু এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

‎এএম/ক.ম