নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে চীনা নাগরিকদের পরিচালিত একটি প্রকল্পে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় ডাকাতদলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি করা অর্থ ও মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মাসুদ রানা, নাছির পিয়াদা, হৃদয় মীর, রোমান শেখ ও মো. মামুন।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইয়াং জি জিয়াং প্রকল্পে প্রবেশ করে। শ্রমিকদের শিফট পরিবর্তনের সময় সুযোগ নিয়ে তারা মূল ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। প্রথমে গার্ডরুমে থাকা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে বেঁধে ফেলে। এরপর নিচতলায় থাকা এক চীনা নাগরিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে পড়ে।
এ সময় ডাকাতরা প্রকল্পের সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে লুটপাট চালায়। এক চীনা নাগরিক বাধা দিলে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। আহত ওয়েন জিনহুয়া বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
র্যাব জানায়, লুট হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আইফোন ও স্মার্টফোন, তিনটি দামি ঘড়ি এবং প্রায় ৭ লাখ টাকা নগদ অর্থ। ঘটনার পর র্যাব ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং ডাকাতদের ফেলে যাওয়া একটি মোবাইল ফোন জব্দ করে। ওই মোবাইলের তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযান চালিয়ে ডাকাতদলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি ব্র্যান্ডের দামি ঘড়ি, দুটি বিদেশি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৫ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নাছির পিয়াদার বিরুদ্ধে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানা ও চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় দুটি মামলা রয়েছে এবং রোমান শেখের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি ছিনতাই মামলা রয়েছে। এ ছাড়া ডাকাতির ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, এই ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে এবং লুট হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একেএস/এআর