images

জাতীয়

নবীকে (স.) কটুক্তির শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাইলেন এমপি হানজালা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩০ পিএম

মহানবীকে (সা.) নিয়ে কটুক্তিকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। 

তিনি বলেন, এদেশের মানুষ নামাজ না পড়লেও নবীর সম্মানে আঘাত লাগলে তাদের কলিজা ছিঁড়ে যায় এবং তারা রাজপথে নেমে আসে। এই ধরনের ধৃষ্টতা বন্ধ করতে সংসদ থেকে দ্রুত মৃত্যুদণ্ডের আইন পাস করতে হবে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। 

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর হিসেবে নিজের পরিচয় তুলে ধরে হানজালা বলেন, ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম তার রক্তে মিশে আছে এবং হাজী শরীয়তুল্লাহর সেই সংগ্রামের ধারাবাহিকতা না থাকলে ১৯৪৭ কিংবা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হতো না।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে এমপি হানজালা উল্লেখ করেন যে, তিনি কেবল শিবচরের কথা বলতে আসেননি, বরং একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হিসেবে ইনসাফের পক্ষে কথা বলতে দাঁড়িয়েছেন। 

সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সরকার ভালো কাজ করলে তারা প্রশংসা করবেন এবং ভুল করলে এই সংসদেই দাঁড়িয়ে কড়া প্রতিবাদ জানাবেন। সংসদে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ ও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ খচিত থাকায় তিনি সরকারের প্রশংসা করে বলেন, ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ ওলামায়ে কেরাম তাদের কণ্ঠস্বর হিসেবে এই সংসদের দিকে তাকিয়ে আছেন।

ধর্মীয় ইস্যু প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, যারা নবীকে শেষ নবী হিসেবে অস্বীকার করে অথচ নিজেদের মুসলমান দাবি করে, তারা কোনোদিন মুসলমান থাকতে পারে না এবং তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নবীকে নিয়ে কটুক্তি বা অশ্লীল গালিগালাজ করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে অতীতে অনেক মানুষ রাজপথে প্রাণ হারিয়েছে। তাই এই ধরনের ধৃষ্টতা বন্ধ করতে সংসদ থেকে দ্রুত মৃত্যুদণ্ডের আইন পাস করা অত্যন্ত জরুরি ।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সমসাময়িক কিছু সংকট তুলে ধরেন। তিনি এলাকার তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে প্রশাসনের অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সহজে জামিন পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে আইন সংশোধনের জন্য আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

এছাড়া ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে ‘হাদি’ নামক জনৈক যুবকের হত্যাকাণ্ডের সুনিশ্চিত বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা যুবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। 

সর্বোপরি, মাদক মুক্ত ও শিক্ষানুরাগী একটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

টিএই/এএইচ