images

জাতীয়

আসন্ন বাজেটে বিড়ি শিল্পে শুল্ক না বাড়ানোর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

আসন্ন বাজেটে বিড়ি শিল্পে শুল্ক বৃদ্ধি না করা ও কর বৈষম্য দূরসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে শ্রমিকরা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিড়ি ও সিগারেটের অগ্রিম আয়করের বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেন বলেন, দেশের অন্যতম প্রাচীন শ্রমঘন শিল্প হিসেবে বিড়ি খাত অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। 

কিন্তু বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে এ শিল্প মারাত্মক চাপে পড়েছে। অনেক মালিক কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।

তিনি বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও বিড়ি শ্রমিকরা ভাতা নয়, কাজের সুযোগ চান। তাই শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে শুল্ক বৃদ্ধি না করার পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য সপ্তাহে ছয় দিন কাজের নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিড়ির অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ হলেও সিগারেটের ক্ষেত্রে তা ৫ শতাংশ, যা স্পষ্ট বৈষম্য। একই ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে এ পার্থক্য দূর করা প্রয়োজন।

এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলো দেশের তামাক বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করছে। বর্তমানে নিম্নস্তরের সিগারেট বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ দখলে রেখেছে বলে দাবি করা হয়। দেশীয় শ্রমঘন বিড়ি শিল্প রক্ষায় নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য ও শুল্ক বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়।

এছাড়া নকল বিড়ির বিস্তারকে শিল্পটির জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি বৈধ উৎপাদকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শ্রমিকরা বাজেটে বিড়ির শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাবেরও প্রতিবাদ জানান। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এম/এআরএম