images

জাতীয়

ফুটপাতে ব্যবসায় লাইসেন্স নিতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ফুটপাতে ব্যবসা করতে হলে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স দেওয়ার জন্য কাজ চলছে। এজন্য ব্যবসায়ীদের ছবি সংগ্রহ, তাদের নাম এবং যাচাই বাছাই চলছে। 

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ফুটপাত উচ্ছেদকরণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজের উদ্বোধনকালে এসব কথা জানান ঢাকা ডিএসসিসি প্রশাসক।

ফুটপাতে ব্যবসা করতে চাইলে লাইসেন্স নিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের যে কোনো ব্যবসা যদি আপনি করেন অনুমতি লাগবে। এই ব্যাপারটা আপনাদের সহযোগিতা চাই। সবাইকে এই ব্যাপারে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। একটা ভ্যান্ডরকে আইনের মাধ্যমেই সবকিছু করতে হবে। একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আসতে হবে। এজন্য তাদেরকে আমরা লাইসেন্স দেব। ফটো আইডি রাখতে হবে তাকে গলায়। যে ব্যবসা করবে এখানে সে যে ব্যবসার মালামাল রাখবে। সেখানে লাইসেন্সের নাম্বার থাকতে হবে। 

এজন্য আমরা সময় নিচ্ছি। একমাস সময় নেব। এক সপ্তাহের মধ্যে এগুলো জরিপ করছে। কারা ঢাকা শহরে ব্যবসা করতে পারবে, কারা করবে না, আমরা তাদেরকে চিহ্নিত করতে চাই এবং এই ব্যাপারে আমরা একটা শৃঙ্খলা আনতে চাই। 

নগরবাসীকে চিকনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর ব্যাপারে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আজকে সামনে চিকনগুনিয়া এবং ডেঙ্গু রঙের প্রভাবের সময় আসতেছে। এখন থেকে সিটি কর্পোরেশন চেষ্টা করছে। 

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান আমরা কন্টিনিউ চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু জনগণের সহযোগিতা না পেলে আবার আপনারা যদি অসুস্থ হয়ে যান। মশা যদি আপনাকে কামড় দেয় তাহলে দোষ দিবেন সিটি কর্পোরেশনকে। অর্থাৎ আপনার আঙিনা আপনাকে পরিষ্কার রাখতে হবে। আপনার রাস্তা আমাকে পরিষ্কার রাখতে হবে। এই রাস্তা একদিক দিয়ে সিটি কর্পোরেশন পরিষ্কার করে যায়। আরেকদিন এইখানে যে কোনো একজন বসে। এখানে খাবার খাইলেন উচ্ছিষ্ট খাবারটা রাস্তায় ফেলে গেলেন। এই যে এইভাবে প্রত্যেকটা নাগরিক যদি আমরা সচেতন না হই তাহলে কীভাবে হবে। আমরা একটা শপথ নেব। রাজপথে কেউ কোনো কিছু ফেলবো না। এটা শপথ নেন। দেখেন রাজপথ অপরিষ্কার হয় কি না।

লাইসেন্স কারা পাবে তা নিয়ে তিনি আরো বলেন, প্রথমেই বলেছি ঢাকা শহরে কোথায় কোথায় কোন ভ্যান্ডররা বসবে আমরা সেই লাইসেন্স দেব। আমরা সব জায়গায় ভেন্ডারদের দেব, কিন্তু কয়টা দেব ১০ জনের জায়গায় যদি আপনি এখন ১ হাজার বসাই দেন তাহলে তো হবে না। যেখানে ১০ জন দরকার আমরা ১০ জন দেব, কিন্তু আমরা চিহ্নিত করে দেব। সেখানে এসেনশিয়াল ড্রাগসের ব্যাপারেও থাকতে পারে। এসেনশিয়াল নিড যেগুলো আছে রোগীদের লাগে। আমরা তাদেরকে এখানে লাইসেন্স দেব যাতে তারা একটা শৃঙ্খলার মাঝে বসতে পারে। আমরা এখানে তাদের ব্যবস্থার জন্য বলে দেই। আমরা পাবলিক টয়লেট দেব। কিন্তু সেই টয়লেটগুলো যাতে ব্যবস্থা করা যায়। এই ব্যাপারে আমি আবার বলছি আপনাদের সহযোগিতা দরকার। সিটি কর্পোরেশন একা পারবে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেমনি ঢাকা শহর ক্লিন চান গ্রিন চান ঠিক তেমনিভাবে তিনি আবার মানবিক তিনি। এইটাও চিন্তা করেন। এই হকারদের আমরা সরিয়ে দিলাম তারা যাবে কোথায়? তাদের তো একটা অর্থ সংস্থানের দরকার। মানবিক প্রধানমন্ত্রী এটাও চিন্তা করছেন। কাজেই হকারদের উচ্ছেদ শব্দটায় আমরা আসতে চাই না। তাদেরকে পুনর্বাসনের জন্য আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করব। আমরা ঢাকা শহরে সান্ধ্যকালীন মার্কেট করব পরে আমরা হলিডে মার্কেট করব। শুক্র এবং শনি। এটার জন্য বিকল্প জায়গা আমরা অলরেডি ঠিক করেছি। সেগুলো আমরা দেব। আগে আমরা তালিকাগুলো ঠিক করে নেই।

তিনি উচ্ছেদ হওয়া হকারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের মাধ্যমে তাদেরকে বলবো একটু ধৈর্য ধরার জন্য। তারা যেনো পুলিশের কাছে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য যায় যারা ঢাকা শহরে ব্যবসা করতে চায়। কাজেই এটা একটা শৃঙ্খলা আনার জন্য আপনারা সহযোগিতা করেন। কেউ যেন এইভাবে না বসে পড়ে। বসে পড়লে পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে যাবে। এরপরে মালামালসহ নিয়ে যাবে। তখন তার ক্ষতি হবে। কাজেই আমরা সেটা চাই না।

এমআইকে/এআরএম