নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
রাজধানীতে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী ‘বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিবসটি উপলক্ষে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা চলবে আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সাত দিনব্যাপী এ আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী উপকরণ, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের তৈরি নানা পণ্য, বৈশাখী সাজসজ্জা, মাটির পণ্য, নকশিকাঁথা এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যের বিভিন্ন উপকরণের সমাহার ঘটেছে।
মেলায় দর্শনার্থীরা কৃষিজাত দ্রব্য, কারুপণ্য, লোকজ পণ্য, পাটজাত ও চামড়াজাত পণ্য সংগ্রহের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি জামদানি, শতরঞ্জি ও শীতলপাটির মতো জিআই পণ্যও পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া রয়েছে কুটির শিল্পজাত সামগ্রী, হস্ত ও মৃৎশিল্পের পণ্য, খেলনা, রূপসজ্জার উপকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের লোকজ খাদ্যদ্রব্য।
আয়োজকরা জানান, এবারের মেলায় মোট ১৬০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চামড়াজাত পণ্যের ৭টি, জামদানির ৬টি নকশিকাঁথার ৪টি, বস্ত্রের ৪৪টি, শতরঞ্জির ৫টি এবং মণিপুরি শাড়ির ২টি স্টল রয়েছে। এছাড়া কারুশিল্পী জোন, শিশুদের রাইড ও বিনোদন জোন, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ১৩টি স্টল রাখা হয়েছে। প্রান্তিক কারুশিল্পীদের জন্য ১৩টি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য দুটি এবং কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির জন্য একটি স্টল বিনামূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নববর্ষ উদযাপনকে আরও উৎসবমুখর করতে ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগ থেকে বিসিক ও বাংলা একাডেমি যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করে আসছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, বাংলা একাডেমির সভাপতি শিক্ষাবিদ আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান।
এএইচ/ক.ম