নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
গত ৯ এপ্রিল বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটে ভাটা পড়েছে। এ দুই আসনে নিবন্ধিত ১ হাজার ৬৬৪ জন প্রবাসী ভোটার মধ্যে মাত্র চারজনের ভোট রিটার্নিং কর্মতাদের হাতে এসেছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশনের ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ বা ওসিভি সিস্টেম বাস্তবায়ন প্রকল্পের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সেলিম আহমদ খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বগুড়া-৬ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা তিনটি ব্যালট পেয়েছেন এবং শেরপুর-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হাতে পেয়েছেন মাত্র একটি ব্যালট।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটগ্রহণের আগের দিন অর্থাৎ ৮ এপ্রিল দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই দুই আসনে মোট ২৮ জন প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান সম্পন্ন করলেও ভোটের দিন ভোটগ্রহণের শেষ সময় পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে মাত্র চারটি ব্যালট।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া-৬ আসনে ১ হাজার ২৮১ জন প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হলেও ভোট দিয়েছেন ২৩ জন এবং চূড়ান্তভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে মাত্র তিনটি ব্যালট। আর দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধিত ২ হাজার ৪৫৫ জন ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৬৫ জন ভোটারের ভোট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে এসেছে।
অন্যদিকে শেরপুর-৩ আসনে ৩৮৩ জন প্রবাসীর মধ্যে পাঁচজন ভোট দিলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের হাতে পৌঁছেছে মাত্র একটি ব্যালট। বিপরীতে দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য ৩ হাজার ১৯০টি ব্যালট ইস্যু করা হয়েছিল এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা সময়মতো ২ হাজার ১৮টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার করা হয়। এ নির্বাচনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি ভোটার নিবন্ধিত হয়েছিলেন।
এমনকি ওই নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়ার হার ছিল ৭০ শতাংশ, যা সাধারণ ভোটের হারের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি ছিল। তবে এ দুই আসনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ হতাশজনক।
পোস্টাল ব্যালটের এমন পরিস্থিতির কারণ হিসাবে ইসি কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত উপনির্বাচনগুলোতে ভোটের হার কম হয়। এছাড়া এবার প্রচার ও সচেতনতাও কম ছিল। তাই এমনটি হয়েছে।
দুটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা জয় লাভ করেন। বগুড়া-৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন মো. রেজাউল করিম বাদশা। আর শেরপুর-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন মো. মাহমুদুল হক রুবেল।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হয়ে আসনটি ছেড়ে দিলে শূণ্য ঘোষণা করে নতুন করে নির্বাচন করে ইসি।
অন্যদিকে শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ায় সে সময় ভোট স্থগিত করে ৯ এপ্রিল নতুন তফসিলে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করে সাংবিধানিক সংস্থাটি।
এমএইচএইচ/এএইচ