জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০২ পিএম
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপারেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, ‘বিরোধী দল চেয়েছিল হাম মারাত্মক আকার ধারণ করুক। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাথে সাথে বিষয়টি ধরতে পেরেছেন। এবং তারা এটা মোকাবিলায় বলিষ্ঠ ভূমিকা নিয়েছেন।’
রোববার (১২ এপ্রিল) নগর ভবনে ডিএসসিসিতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রশাসক সালাম বলেন, ‘বিগত সরকারের অসাবধানতার কারণে আজকে এই সমস্যা (হাম-রুবেলা) সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও অনেক সমস্যা আমরা সিটি করপোরেশন ফেইস করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাঝখানে রুটিন ওয়ার্কগুলো যদি তারা করতো, তাহলে আজকে সরকারের উপর এই ধরণের চাপ পড়তো না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)।
মন্ত্রী বলেন, ‘রাতের অদ্ধকারে হঠাৎ দ্বৈত্বের মতো আক্রমণ করে মিজেলস।’
তিনি বলেন, ‘মহাখালী সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতালে একটি মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে আমাকে যেতে হয়েছিল। আমাদের যাওয়াটা অনেক ভীত সন্ত্রস্ত ভাবে হয়েছিল। আল্লাহ, আমাদের জ্ঞানদান করেছিল যে, এই রোগের বিরুদ্ধে ফাইট করার। আমরা রাতারাতি একটি আইসিইউ খোলার মাধ্যমে সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতাল থেকে আমাদের যাত্রা শুরু।’
আরও পড়ুন: এবার পরিবার নিয়ে শিশুতোষ নাটক দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৫ তারিখ থেকে আমরা মিসাইলসের (হাম-রুবেলা) জন্য ১৮ জেলা ও ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছি। কিন্তু আজকে আমরা সবচেয়ে জনবহুল এলাকায় শুরু করতে যাচ্ছি।
ঢাকার দুই সিটি, ময়মনসিংহ সিটি ও বরিশাল সিটি। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সাকসেসফুলি কাভার করতে পারি। ৬ মাস থেকে ৫ বছর শিশুদের যদি টিকাদানের আওতায় আনতে পারি। তাহলে আশা করি, আমরা মিজেলসের আত্মঘাতি হামলা থেকে বা রোগ থেকে নিজেদের সেভ করতে পারবো।’
এসময় ডিএসসিসি প্রশাসকের সহযোগীতা চেয়ে সিটি করপোরেশনের প্রত্যেকটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার অনুরোধ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সড়ক ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপিসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন।
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন,‘বর্তমান সরকার হামের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। টিকা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এটি কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।’
ডিএসসিসি জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনে লক্ষ্যমাত্রা ৪ লক্ষাধিক (৪,০২,৪৫৬) শিশু। এজন্য ৯০টি স্থায়ী ও ৪৫০টি অস্থায়ী কেন্দ্র মিলে সর্বমোট ৫৪০টি কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে।
এএম/এআরএম