নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৮ এএম
জাতীয় সংসদ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি সংশোধনী বিল পাস করেছে। বিলগুলোতে বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের বিধান বহাল রাখা হয়েছে।
পাস হওয়া বিলগুলো হলো:
সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনুপস্থিত থাকায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিলগুলো তোলেন। জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ সংশোধন বিল নিয়ে বিরোধী সদস্যরা আপত্তি তোলেন। ইউনিয়ন পরিষদ বিলটি তুলনামূলক কম বিতর্কে পাস হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কর্মস্থলে অনুপস্থিত, পলাতক বা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছিল। এখন সেই বিধানগুলো আইনে রূপ দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, আইনগুলো পাস হওয়ার পর সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে এগোবে। এসব আইনে ‘বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে’ জনপ্রতিনিধি অপসারণ এবং প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংশোধনীগুলো স্থায়ীভাবে প্রশাসক বসিয়ে রাখার জন্য নয়, বরং নির্বাচন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী কাঠামো বজায় রাখার জন্য আনা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বিধানও বিল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ অংশে বিরোধী দলের আপত্তি ছিল না।
জেলা পরিষদ ও পৌরসভা বিল পাসের পর বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান সংসদ থেকে ওয়াকআউট ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “দুঃখ হলেও সত্য, গণবিরোধী বিল পাস হলেও আমরা দায় নিতে চাই না। সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি। পরে যেটা যৌক্তিক মনে হবে, এতে আমরা সহযোগিতা করব; যা আমাদের যুক্তিতে ধরবে না, তাতে আমরা বিরোধিতা করব। এটি আমাদের দায়িত্ব ও অধিকার।”
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ওয়াকআউট করা ডেমোক্র্যাটিক রাইটস অ্যান্ড প্র্যাক্টিসের মধ্যে পড়ে।
এআর