images

জাতীয়

ঐক্যবদ্ধভাবে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে হবে: ড. শামীমা তাসনীম

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সভাপতি অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনীম বলেছেন, দেশকে ন্যায়ভিত্তিক অবস্থানে নিতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মতভেদ ও বিভেদ ভুলে গিয়ে জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমেই একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত ‘সংবিধান ও সংস্কার: নতুন বাংলাদেশ নাকি পুরোনো ফ্যাসিবাদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শামীমা তাসনীম বলেন, ‘সংবিধানকে বারবার কাটছাঁট বা সংশোধনের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়। ‘সংশোধন’ এবং ‘সংস্কার’ শব্দের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সংশোধন মানে মূল কাঠামোর ত্রুটি দূর করা, আর সংস্কার মানে গুণগত উন্নয়ন। শুধুমাত্র সংশোধনের মাধ্যমে টেকসই পরিবর্তন আসে না, বরং একটি সমন্বিত ও গভীর সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে শক্তিশালী করতে হবে।’ 

তিনি সংবিধান নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সংবিধান নিয়ে অতীতে নানা বিতর্ক ও রাজনৈতিক বক্তব্য রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংবিধান নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে পরিবর্তন দেখা যায়, যা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়।’

তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ধরনের ঘটনা ঘটছে, তা জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। জনগণের নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা কাম্য নয়।’

তিনি বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার ভারসাম্য না থাকলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে যায় এবং এটি একটি রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করে।’

শামীমা তাসনীম মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার রক্ষা না হলে একটি সমাজ কখনোই সুস্থভাবে এগোতে পারে না। নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে এবং প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ জানাতে পারে। সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয় রোধ করা জরুরি। শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিক মূল্যবোধের গুরুত্ব আরও বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান নয়, সঠিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ শেখানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে জনগণের ঐক্যের ওপর। সবাই যদি নিজেদের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করে এবং বিভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য এই ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি।’

এএইচ/এমআই