images

জাতীয়

সরকারের সর্বোচ্চ সমালোচনা করে তথ্য দেবেন: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, এই জাতির মধ্যে চিন্তা জগত রয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ সমালোচনা বা অনুসন্ধানী মন্তব্য করবেন এবং সরকারের কাছে তুলে ধরবেন। সরকারের কাছে তুলে ধরলে সরকার উপকৃত হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীতে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম বাংলাদেশ ও ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ট্রাকার ও গণমাধ্যমের প্রাসঙ্গিকতা’ আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার এসেছে অল্প কিছুদিন হয়েছে। সেইসঙ্গে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মতো এখনও পরিপক্বতা আসেনি। সরকারের ভুলগুলো তুলে ধরবেন এবং ধরিয়ে দিবেন।

তিনি বলেন, আগের সরকারের যে চিন্তা ভাবনা, সেখান থেকে আমরাও শিক্ষা নিয়েছি। এর আগে আমরাও বারবার ক্ষমতায় ছিলাম। ভুল এবং প্রশংসা; দুটিই আমাদের আছে। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তন এবং গনতান্ত্রিক পথে এগিয়ে চলা। আমরা তা দেখেছি। এগুলো আমাদের চিন্তার মধ্যে রয়েছে। খারাপ কাজ করলে কতটা নির্মম এবং অপমানজনক হতে পারে, এটা আমাদের চিন্তায় রয়েছে। যার মতো সামান্য চিন্তা চেতনা আছে, তিনি শিক্ষা নিবেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সবসময় সংস্কার ভালো কিছু দেয়। আমরা সেই পথে আগাচ্ছি। আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেসব নিয়ে কাজ করবো। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছি, সবার নিরাপত্তা বিধান করছি।

তিনি বলেন, নির্যাতিত সাংবাদিক, গুম-হত্যার ন্যায্য প্রতিকার পেতে একটা ফ্রেমওয়ার্ক দাঁড় করাচ্ছি। অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের ভাতা, বিজ্ঞাপনের নীতিমালা হয়নি। সার্কুলেশনের কথা বললে কেউ বলতে পারে না। কেউ কেউ প্রতারণার আশ্রয় নেন।

সভায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, সংস্কার চলমান অব্যাহত প্রক্রিয়া। সেইসঙ্গে অর্থনীতির গতিশীলতার জন্য সংস্কার অপরিহার্য।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সংস্কারের উদ্যোগ বিভিন্ন সময় হয়েছে এবং গত সরকারের আমলে আমি মাঝে-মধ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলতে গিয়ে অন্তরীণ সরকার বলে ফেলি। কেউ কেউ আমাকে বলেছে অন্তরীণ সরকার বলেন কেন? ইত্যাদি বিষয়ে আছে।

তিনি বলেন, ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের ভিতর দিয়ে চেতনা আসলো সেটার ভিতর দিয়ে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা আরো বেশি প্রকাশ্য এসেছে। সংস্কার কোনো স্থির বিষয় না। এটা একটা অব্যাহত বিষয় ও চলমান বিষয় এবং যে কোনো অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে হলে সেটার মানবদেহের ভিতরে যেমন করে রক্ত সঞ্চালন দরকার করে সংস্কার হল একটি অর্থনীতিকে গতিশীল রাখার জন্য।

তিনি আরো বলেন, আমাদের আগামী দিনে এগিয়ে যেতে হবে। রাজনীতিবিদরা সংস্কারের ধারণা থেকে এবারের যে নির্বাচন ইশতেহার দিয়েছে। তার ভিতরে এই সংস্কারের যে প্রয়োজন এবং একই সাথে যে প্রত্যাশা: দুটোই প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এখন আমি আপনাদের শুধু এইটুকু মনে করিয়ে দিতে চাই, সংস্কারের ধারণা বাংলাদেশে যদি আপনি পিছনে ফিরে যান, তার একটা ইতিহাস আছে। 

আপনারা যদি স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের কথা মনে করেন তাজুদ্দিন আহমেদ সাহেব যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন, তখন সংস্কারের প্রয়োজন পড়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে এবং সেই সময় আপনার মনে আছে যে রাষ্ট্রয়ত্ব করা হয়েছে কলকারখানা পরিত্যক্ত থেকে বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যদি অর্থনীতি সেই অর্থে নীতি নির্ধারকের কথা বলতে হয়, তাহলে অবশ্যই সাইফুর রহমান সাহেবের নাম বলতে হবে। সাইফুর রহমান সাহেবের যে সংস্কার তার ভিতরে দুটো সংস্কার ইতিহাসের পাতায় থাকবে। একটি হল ভ্যাটের প্রচলন আরেকটা হল নমনীয় বিনিময় হারের প্রচলন।

অনুষ্ঠানে নিউএজের সম্পাদক নুরুল কবির, প্রথম আলোর সৈকত হোসেন মাসুম, ইআরএফের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ/এআরএম