images

জাতীয় / আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে আজ জয়শঙ্করের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক 

বিশেষ প্রতিনিধি

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

ভারতের রাজধানী দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। 

ভারতের স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ।

দীর্ঘদিন পর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা অমীমাংসিত ও চলমান ইস্যু স্থান পাবে। আলোচনার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি, ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পুনরায় চালু এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। 

এ ছাড়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা বন্ধের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় সব ধরনের ভিসা চালু করার জোরালো দাবি জানানো হবে। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের প্রত্যর্পণ এবং বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। 

এ ছাড়াও জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় ভারতের সমর্থন চাইবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম দিল্লি সফর। 

সরকারের পক্ষ থেকে এই সফরকে একটি শুভেচ্ছা সফর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দিল্লির বৈঠকের পর বিকেলে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ড. খলিলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই বাণিজ্যিক ফ্লাইটে মরিশাসের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেখানে ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন তারা। 

সাত-আট ঘণ্টার এই দীর্ঘ আকাশযাত্রায় দুই দেশের মন্ত্রীরা একান্ত পরিবেশে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার বিশেষ সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা। এর ফলে দ্বিপাক্ষিক অনেক জটিল সংকট সমাধানের পথ সহজ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কয়েক মাস আগেও ভারত সফরে গিয়েছিলেন খলিলুর রহমান। তখন তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে তিনি পা রাখলেন তারেক রহমানের সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে। বাংলাদেশের পালাবদলের পর নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে খলিলুরের এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

এস জয়শঙ্কর ছাড়াও ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল ও পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে বৈঠক করবেন খলিলুর। 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লি পৌঁছনোর পর খলিলুর রহমান নৈশভোজে মিলিত হয়েছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে। উভয়ের মধ্যে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, খলিলুরের ভারত সফরের ঠিক আগে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি এবং তিস্তা মহাপ্রকল্প নিয়ে দু’দেশের সদস্য নিয়ে তৈরি হওয়া টেকনিক্যাল কমিটি কাজ শুরু করে দিয়েছে বলে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি। 

পাশাপাশি, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়াল বলেছেন, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে জলসম্পদ বিষয়ক কাঠামোগত মেকানিজম ইতিমধ্যেই রয়েছে এবং সেটি কাজ করছে। ফলে বুধবারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তেলের পাশাপাশি পানিবণ্টন চুক্তিও সমান গুরুত্ব পেতে পারে।

মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক্সে লিখেছেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের পারস্পররিক সম্পর্কের ভিত্তিতে দু’দেশের ঐতিহাসিক ও উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এ সফর ভারত-বাংলাদেশ অংশীদারিকে শক্তিশালী করবে’।

-এমএমএস