images

জাতীয়

পথচারীদের নিরাপত্তা দিতেই ফুটপাত দখলমুক্ত করা: ডিএনসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ঢাকার সড়কে দুর্ঘটনায় নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি পথচারী হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই নগরবাসীর জন্য নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) গুলশানে ডিএনসিসির সভাকক্ষে আয়োজিত ‘ঢাকার সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক এসব বলেন।

ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কারিগরি সহায়তায় ২০২২ ও ২০২৩ সালে ঢাকার সড়কে সংঘটিত দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়। এ জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানায় নথিভুক্ত সাধারণ ডায়েরি ও মামলার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ডিএনসিসি ও ডিএমপির যৌথ উদ্যোগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটির সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন বিআইজিআরএস-ঢাকার সার্ভিল্যান্স কোঅর্ডিনেটর ডা. তানভীর ইবনে আলী। তিনি জানান, ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী ২০২২-২০২৩ সালে ঢাকার সড়কে দুর্ঘটনায় মোট ৫৪০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ বা ৩০৩ জন পথচারী, ২৪ শতাংশ বা ১২৮ জন মোটরসাইকেল আরোহী এবং ৮ শতাংশ বা ৪১ জন রিকশা ব্যবহারকারী। নিহতদের ৮০ শতাংশ পুরুষ এবং ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী মানুষের মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি, যা দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য উদ্বেগজনক। 

DNCC_report_publication
ডিএনসিসির সভাকক্ষে ‘ঢাকার সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠান। ছবি: ঢাকা মেইল

তানভীর ইবনে আলী জানান, দিনের তুলনায় রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেশি। এসব দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত বেপরোয়া বাস ও ট্রাককে দায়ী করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ঢাকার বিভিন্ন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও মোড় চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী মোড় ও বিমানবন্দর মোড়ে সর্বোচ্চ ১২ জন করে এবং আব্দুল্লাহপুর মোড়ে ১০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আর্মি গলফ ক্লাব বাসস্ট্যান্ড থেকে আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা প্রতি কিলোমিটারে গড়ে ৮ জনেরও বেশি মৃত্যুর সমান। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারকারী, বিশেষ করে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একযোগে কাজ করতে হবে। পথচারী, যাত্রী ও চালক—সব সড়ক ব্যবহারকারী যদি সচেতন হন এবং আইন মেনে চলেন, তাহলে সড়ক অনেকটাই নিরাপদ হয়ে উঠবে।

ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্য-উপাত্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা নিলে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তিনি জানান, প্রতিবেদনে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও মোড় যেগুলো চিহ্নিত হয়েছে সেগুলো পুনঃনকশা করা হবে। পাশাপাশি পথচারীদের জন্য নিরাপদ পারাপার ব্যবস্থা, উন্নত ও প্রশস্ত ফুটপাত এবং জেব্রা ক্রসিং স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিআইজিআরএসের সমন্বয়কারী মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান, ডিএমপি ও ডিএনসিসির যৌথ উদ্যোগে ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে তা পথচারীদের জন্য ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। 

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি একটি পরিবারের জন্য আজীবনের বেদনা। তাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা জরুরি। বিশেষ করে নিরাপদ সড়ক ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রিত গতিতে যানবাহন চালানোর বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন অথরিটির সিনিয়র রোড সেফটি স্পেশালিস্ট মো. মামুনুর রহমান, বিআরটিসির মহাব্যবস্থাপক (পরিচালনা) মেজর মো. নিজাম উদ্দিন, নিরাপদ সড়ক চাইয়ের সহ-সভাপতি এসএম আজাদ হোসেন, ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের কনসালটেন্ট ফারজানা ইসলাম তমা, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান এবং সেন্টার ফর ইনজ্যুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কাজী বোরহান উদ্দিন।

বিআইজিআরএস সমন্বয়কারী মো. আব্দুল ওয়াদুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. ওয়াতিন আলম এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ ওয়ালি নোমানসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/ক.ম