জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
সংবিধান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে দুই বেলা করে সংসদ অধিবেশন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশাল এই কর্মযজ্ঞ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনে শুক্রবারও অধিবেশন চালু রাখার কথা জানিয়েছে সরকার পক্ষ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে বিলের কপি সময়মতো না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অধিবেশনে উত্তপ্ত আলোচনা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অধিবেশনের শুরুতেই সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন কার্যপ্রণালী বিধি উল্লেখ করে তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বলেন, বিধি অনুযায়ী বিলের প্রতিলিপি অন্তত তিন দিন আগে সদস্যদের হাতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ৪৯ পৃষ্ঠার একটি দলিল তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন সংসদ সদস্যদের জন্য বিষয়গুলো বোঝা ও আলোচনায় অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে স্পিকার বলেন, বিধিতে নির্ধারিত সময়সীমা থাকলেও বিশেষ প্রয়োজনে তা মওকুফ করার ক্ষমতা স্পিকারের রয়েছে। সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেই বিলটি উত্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে চিফ হুইপ জানান, সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না হলে সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে, যা দেশের জন্য বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যেই এসব বিল পাস করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ‘হাম-রুবেলা টিকার সাড়ে ৫ বছর ক্যাম্পেইন হয়নি, দায় বিগত সরকারের’
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বিলের ৯০০টি করে কপি প্রস্তুত করতে বিজিবি প্রেস ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। সময় স্বল্পতার কারণে বিলের কপি আগে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
ম্যারাথন অধিবেশনের অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে—মঙ্গলবার থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা ও বিকেল সাড়ে ৩টায় দুই সেশনে অধিবেশন চলবে। বৃহস্পতিবারের বেসরকারি সদস্য দিবস বাতিল করে সেটিকে সরকারি কার্যদিবস হিসেবে ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজনে শুক্রবারও অধিবেশন চালু থাকবে।
চিফ হুইপ বিরোধী দলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, গঠনমূলক আলোচনার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
টিএই/এআর