images

জাতীয়

‎মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধে আইন পাসে অনীহা বিস্ময়কর: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

দেশে কার্যকর মানবাধিকার কমিশন গঠন ও গুম প্রতিরোধে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত অধ্যাদেশগুলো দ্রুত পাসে আগ্রহ না দেখানো উদ্বেগজনক ও বিস্ময়কর বলে জানিয়েছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত কয়েকটি অধ্যাদেশ রহিত/বাতিল সংশোধন সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে টিআইবি। পাশাপাশি, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে টিআইবি।

‎সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে ধানমন্ডির টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

‎ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সবচেয়ে বড় বিস্ময় হচ্ছে, মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা এবং গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধানের অভাবে মানুষের জীবন কতটা দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে, তার ভুক্তভোগী ক্ষমতাসীন দলটি এর প্রয়োজনীয়তা কেন এখনো উপলব্ধি করতে পারছে না। যেসব বিষয়কে সামনে রেখে আলোচিত অধ্যাদেশসমূহকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়া হলো তা আরো বেশি আশংকার এবং উদ্বেগের।

‎‎তিনি আরো বলেন, দেশে একটি কার্যকর মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং গুম প্রতিরোধে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত অধ্যাদেশগুলো এখনই পাশ করতে আগ্রহী নয় বরং পরে করতে আগ্রহী। প্রশাসনিক স্বাধীনতা খর্ব, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা ও বিচারিক ক্ষমতাকে নির্বাহী ক্ষমতায় রূপান্তর এসব বিষয়কে সামনে রেখে অধ্যাদেশগুলো অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাহী পরিচালক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গত ২ এপ্রিল মোট ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু আইনে পরিণত করার জন্য সুপারিশ করেছে। যা সাধুবাদ পাবার যোগ্য। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন ২০২৫, জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে করা জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশও রয়েছে। তবে আইনে পরিণত হতে যাওয়া সব অধ্যাদেশের সবই দুর্বলতাহীন নয়, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্বল করা হয়েছে। যেমন: সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত ৪টি সংশোধনী অধ্যাদেশও এরমধ্যে রয়েছে।

‎‎তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত চারটি সংশোধনী অধ্যাদেশও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতায় দুষ্ট। মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার যেমন: সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বরখাস্ত করা এবং প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা পায় সরকার। যেখানে বিশেষ পরিস্থিতি ও জনস্বার্থে সরকারের এই ক্ষমতা প্রয়োগ করার কথা বলা হয়। কিন্তু নির্বাচিত সরকারও নিজের ইচ্ছেমতো সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাকে স্বাভাবিকতায় পরিণত করেছে, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থি।

‎‎ইফতেখারুজ্জামান ছাড়াও টিআইবি পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান, উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের উপস্থিত ছিলেন।

‎একেএস/এফএ