images

জাতীয়

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে শহীদ পরিবার ও আহতদের অন্তর্ভুক্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম

জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের সম্পৃক্ত করে ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান জানিয়েছে ‘শহীদ ও জুলাই যোদ্ধা ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম’।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এ আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামো নির্মাণ করা হলে তা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠবে। তাদের অভিযোগ, জুলাই সনদের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি থাকা সত্ত্বেও গণভোট ইস্যুতে ইচ্ছাকৃতভাবে মতপার্থক্য তৈরি করা হচ্ছে, যা আন্দোলনের মূল চেতনা থেকে বিচ্যুতির ইঙ্গিত দেয়।

তারা আরও বলেন, একদিকে জুলাই সনদের প্রতি সমর্থন জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে গণভোট প্রসঙ্গে ভিন্ন অবস্থান নেওয়া হচ্ছে—এটি আন্দোলনের অংশীজনদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টির প্রয়াস। এ ধরনের দ্বৈত অবস্থান পরিহার করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নেতারা বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গঠনে সরকারের সদিচ্ছা দৃশ্যমান। তবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জুলাইয়ের আহত যোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও বিপ্লবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলা হয়, এই বিপ্লব কি সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে এখন কেন সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে? বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনই বর্তমান পরিবর্তনের ভিত্তি, আর সেই ভিত্তিকে অস্বীকার করা মানে শহীদদের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা।

তারা বলেন, কেবল সরকার পরিবর্তনের জন্য এ আন্দোলন হয়নি। যদি শহীদ ও আহতদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন না হয় এবং সনদ বাস্তবায়ন না করা হয়, তবে তারা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামীকাল একটি গোলটেবিল বৈঠক এবং ৭ এপ্রিল শহীদ হাদী চত্বরে সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ সময় জুলাই আন্দোলনে শহীদ রমিজউদ্দিনের পিতা রকিবুল ইসলাম, সর্বকনিষ্ঠ শহীদ জাবের ইব্রাহিমের পিতা কবির হোসেনসহ সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/এএইচ