images

জাতীয়

শাস্তির আওতা বাড়িয়ে সরকারি চাকরি সংশোধন বিল অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা জোরদারে শাস্তির আওতা বাড়িয়ে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে আনা এই বিলটি পাসের সময় বিরোধী দল ভোটদানে বিরত থাকে।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর উত্থাপিত ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ কণ্ঠাভোটে পাস হয়। এতে সরকারি কর্মচারীদের (আইনানুযায়ী সবাই কর্মচারী) চারটি বিষয়কে অপরাধের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু পাসের সুপারিশ করেছিল সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এই আইনটি ২০২৫ সালের মে ও জুলাই মাসে দু’দফায় সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করেছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার। 

এই বিলের মাধ্যমে অধ্যাদেশটি আইনে রূপ পেতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী যদি এমন কোনো কাজে লিপ্ত হন, যা অনানুগত্যের শামিল বা যা অন্য যেকোনো সরকারি কর্মচারীর মধ্যে অনানুগত্য সৃষ্টি করে বা শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধার সৃষ্টি করে; অন্যান্য কর্মচারীর সঙ্গে সমবেতভাবে বা এককভাবে ছুটি ছাড়া বা কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া নিজ কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকেন বা বিরত থাকেন বা কর্তব্য সম্পাদনে ব্যর্থ হন; অন্য যেকোনো কর্মচারীকে তার কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকতে বা বিরত থাকতে বা তাঁর কর্তব্য পালন না করার জন্য উসকানি দেন বা প্ররোচিত করেন; এবং যেকোনো সরকারি কর্মচারীকে তার কর্মে উপস্থিত হতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে তিনি অসদাচরণের দায়ে দণ্ডিত হবেন।

অন্তর্বর্তী সরকার এই অধ্যাদেশ জারির পরদিন প্রত্যাহারের দাবিতে সচিবালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় দিনভর বিক্ষোভ করেছিলেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা।

পাস হওয়া বিলে চারটি বিষয়কে অপরাধের আওতায় এনে তিনটি শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো- বরখাস্ত, অব্যাহতি এবং বেতন ও পদের গ্রেড কমিয়ে দেওয়া। যেসব অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- অনানুগত্য দেখানো ও কাজে বাধা দেওয়া, একক বা সমবেতভাবে কাজে অনুপস্থিত থাকা, কাউকে কাজ থেকে বিরত থাকতে উস্কানি দেওয়া এবং কাউকে কাজ করতে বাধা দেওয়া।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রী বলেন, বিলটি পাস হলে সরকারি কর্মচারিদের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠাসহ এ সংক্রান্ত আইনগত কার্যক্রম গ্রহণে সহায়ক হবে।

এমএইচএইচ/এএইচ