images

জাতীয়

র‍্যাব পুনর্গঠন ও সংস্কার সরকারের বিবেচনার বিষয়: র‍্যাব ডিজি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১০ পিএম

র‍্যাবের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, ‎র‍্যাব পুর্নর্গঠন, সংস্কার, স্ট্র্যাকচারিং এগুলো সরকারের বিবেচনার বিষয়। আমরা নিজ থেকে এগুলো নিয়ে কিছু করার প্রযোজন মনে করছি না। 

‎রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা ১২ টায় কারওয়ানা বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।   

আহসান হাবীব পলাশ বলেন, আমাদের প্রায়োরিটি হচ্ছে কাজ করা, আমরা সেটা করতে চাই। মানবাধিকার বা অন্যান্য ত্রুটির বিষয়ে আমরা অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করি। এ ব্যাপারে কেউ ছাড় পাচ্ছে না। 

আমি আশা করি, এই কাজগুলোর মাধ্যমে আমরা বেলাশেষে ভালো অবস্থানে যেতে পারবো এবং আমাদের বিরুদ্ধে যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো আস্তে আস্তে সমাধান হয়ে যাবে।

‎এ সময় তিনি সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাব ফোর্সেস পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানিক সাফল্য এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, ক্রসফায়ারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে কোনো তথ্য চাওয়া হলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। চিফ প্রসিকিউটর র‍্যাবের ক্রসফায়ারগুলোর নথি তলব করছে, মামলাগুলো তদন্ত করবে। 

বিচার প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা চাওয়া হলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। আমাদের কাছে যা আছে তা দিব। কোনো তথ্য না থাকলে আমরা অপারগতা প্রকাশ করব। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল এই বিষয়ে এখনো আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

‎তিনি বলেন, র‍্যাব সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়ভার র‍্যাবের ওপর বর্তায় না। সরকার এই বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন। আমাদের (র‍্যাব) কর্তব্য হচ্ছে দায়িত্ব পালন করা। আমরা যেহেতু রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছি সেহেতু আমাদের মূল কাজই হচ্ছে র‍্যাবকে জনগণের সামনে কাজের মাধ্যমে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। র‍্যাব সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে, আমরা আমাদের কাজ করে যাব।

‎র‍্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা যদি পর্যালোচনা করেন তাহলে দেখবেন, র‍্যাব গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন কোন সময় কি কি কারণে এ ঘটনাগুলো ঘটলো। 

তাহলে দেখবেন, কাজের ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা, কিছুটা পদস্খলন ছিল বলে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে। আমরা যদি এই বিষয়গুলো ঠিক করতে পারি, তাহলে আমার মনে হয় নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো থাকবে না।

‎বিগত সময়ে র‍্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের বিষয়ে গত দেড় বছর এবং এর আগের সরকারের সময়ে র‍্যাবের কার্যক্রম যদি পর্যালোচনা করে দেখেন, তাহলে দেখবেন, র‍্যাব অপকৃর্তীর ইতিহাস বেশি নেই। 

এতেই প্রমাণিত হয়, র‍্যাবকে যদি সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়, তাহলে র‍্যাব সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে। 

আমি মনে করি, এ ব্যাপারে সরকার চেষ্টা করছে, আমাদের ভালো কাজে সম্পৃক্ত করা জন্য এবং আমি আশা করি র‍্যাব সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। এ ব্যাপারে আমরা সরকারের কিছু নির্দেশনা পেয়েছি।

‎তিনি আরও বলেন, জলদস্যু, বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আমরা গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছি। এই বিষয়গুলো আমরা জেনেছি। এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। যে বাদই থাকুক না কেন, আমরা সব বাদই নির্মূল করতে পারবো। নির্বাচনসহ নানা কারণে আমরা এদিকে দৃষ্টি দিতে পারিনি। এই ব্যাপারে আমরা এখন তথ্য সংগ্রহ করেছি। 

কিশোর গ্যাং বাংলাদেশে দিনে দিনে প্রকট আকার ধারণ করছে। আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ এবং র‍্যাব যৌথভাবে এটি নিযে কাজ করছে। কিশোর গ্যাং কে সব সময় আইনের মধ্যে রাখতে সমস্যা হয়। কিন্তু আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আপনারাও (সাংবাদিক) উন্মোচন করুন, কারা কিশোর গ্যাং কে সহায়তা করছে। তাহলে আমাদের কাজ সহজ হয়ে যাবে।

‎একেএস/এআরএম