জেলা প্রতিনিধি
০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
জুলাই সনদ নিজেই স্বতন্ত্র, স্বকীয় ও কার্যকরী বলে মন্তব্য করেছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাড. মো.আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সঙ্গে গণভোটের কোনো সম্পর্ক নেই। জুলাই সনদ কার্যকর করতে পারবে বর্তমান এই পার্লামেন্ট। জুলাই সনদ কীভাবে কার্যকর হবে সেটা জুলাই সনদের মধ্যেই বলে দেওয়া আছে। সুতরাং, জুলাই সনদ হওয়া না হওয়া নিয়ে গণভোট বাতিল হওয়া নির্ভর করে না। এটা আমরা পার্লামেন্টে সুস্পষ্টভাবে বলেছি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ধাওড়া গ্রামে খালখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিএনপি জুলাই সনদকে হৃদয়ে ধারণ করে। বিএনপি জুলাই সনদকে চেতনায় ধারণ করে। বিএনপি বিশ্বাস করে, জুলাই সনদ এদেশের ২০২৪ এর জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তের অক্ষরে লিখিত। বিএনপি বিশ্বাস করে, জুলাই সনদ এদেশের আপামর জনসাধারণের একটি মুক্তির সনদ।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ। আর এই জুলাই সনদই বলছে, আমাকে বাস্তবায়ন করো সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে। এটা জুলাই সনদে সুস্পষ্টভাবে লিখিত আছে।
সুতরাং, যারা বলছেন গণভোট বাতিল হলে জুলাই সনদ বাতিল হবে, এটা মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য। তারা বলে, ৭২ এর সংবিধান মানি না। আমরা বলি, ৭২ এর সংবিধান জুলাই সনদের অংশ।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন কথা বলি, কোনটা আইনে পরিণত হবে কোনটা হবে না সেটার ওপর ডিবেট করি। সেটা না করে আপনারা কি করছেন? রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করছেন। আরে ভাই, রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ নিলেন, রাষ্ট্রপতির সংশোধনী মানছেন।’
বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এই যে জুলাই গণভোট অধ্যাদেশ বলছেন, এটাও তো রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত অধ্যাদেশ।
এই গুলো মানতে পারবেন, আবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনা করতে চান। অথচ, রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় উনারা বয়কট করলেন, বললেন উনারা ভাষণ শুনবেন না। এইটা হলো জামাতি চরিত্র। এইটা হলো মোনাফেকি চরিত্র।’
আসাদুজ্জামান আরও বলেন, জুলাই সনদ বলতে বলতে মুখে ফেনা উঠে গেছে আপনাদের। জুলাই সনদের ২২ নম্বর ক্লজে লেখা আছে, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলো কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারীদের প্রার্থী করবে। বিএনপি প্রায় ৫ শতাংশ নারীকে প্রার্থী করেছে, যদিও ৫ শতাংশ পুরোপুরি পারেনি। কিন্তু জামাত একজনকেও দেয়নি, এনসিপি একজনকেও জুলাই সনদের আওতায় একজন নারীকেও প্রার্থী করেনি।
জ্বালানি তেল সংকটে আইনি প্রয়োগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এক শ্রেণির মানুষ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য একই মোটরসাইকেল নিয়ে একই দিন একাধিক জায়গা থেকে তেল নিচ্ছে। সেই তেল নিয়ে বাসায় গিয়ে বোতলে ভরে, ড্রামে ভরে রেখে আবার তারা তেল নিতে আসছে। আমরা এতদিন সফট (নমনীয়) লাইনে ছিলাম।
আমরা বলেছি, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে কালোবাজারি এবং মজুতদারির বিরুদ্ধে সেকশন ২৫ এর যে শাস্তির বিধান করা হয়েছে, প্রয়োজনবোধে সেই শাস্তি আমরা প্রয়োগ করব। এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
জ্বালানি তেল সংকট রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসনকে বলছি, আপনারা কঠোর হোন। আপনাদের সাথে অতন্দ্র প্রহরীর মতো আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীরা থাকবেন।’
খাল খনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, আগামী ১৮ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঝিনাইদহের শৈলকূপায় খান খনন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা খাল খনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ধাওড়া গ্রামের ধলহরা খাল খনন কর্মসূচির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
এআরএম