নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
রাজধানীর মিরপুর ১০ এলাকায় ফুটপাত যেন দিনের দুই ভাগে বিভক্ত। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফুটপাত দিয়ে চলাচলে কিছুটা স্বস্তি থাকে। কিন্তু বিকেল গড়াতেই পুরো চিত্র পাল্টে যায়। পথচারীদের হাঁটার জায়গা দখল করে নেয় সারি সারি ভাসমান দোকান। এতে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মিরপুর ১০ গোলচত্বর ও আশপাশের সড়ক ঘুরে দেখা যায়, সকালের দিকে ফাঁকা থাকলেও বিকেলের দিকে ধীরে ধীরে ফুটপাতজুড়ে বসতে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের দোকান। শুরুতে দুয়েকটি দোকান থাকলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দোকানের সংখ্যা।
কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো ফুটপাত দখল হয়ে যায় কাপড়, জুতা, ফল, ফাস্টফুড, চা-নাশতা ও মোবাইলসামগ্রীর দোকানে। অনেক ক্ষেত্রে ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের একাংশও দখলে চলে যায়। ফলে পথচারীদের জন্য সৃষ্টি হয় চরম ভোগান্তি। বাধ্য হয়ে পথচারীদের অনেকেই নেমে পড়েন মূল সড়কে, যা বাড়িয়ে তোলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। একইসঙ্গে যান চলাচলেও তৈরি হয় তীব্র চাপ।
সন্ধ্যার দিকে মিরপুর ১০ এলাকায় নাহিদ নামে এক পথচারীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, বিকেলের পর এই রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। ফুটপাতে দোকান, রাস্তায় গাড়ি—মাঝখানে আমরা কোথায় যাব বুঝি না। প্রতিদিন একই অবস্থা। সকালে একটু ফাঁকা থাকে, কিন্তু বিকেলে বের হলেই ভোগান্তি।
মিরপুর ১০ হয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন চাকরিজীবী ফাহিমা আকতার। তিনি বলেন, অফিস শেষে যখন ফিরি, তখন সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। ফুটপাত পুরো দখল হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হয়, এতে দুর্ঘটনার ভয়ও থাকে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে উঠে আসে জীবিকার তাগিদের কথা। তাদের অনেকেই গ্রামের বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় এসে এই ভাসমান ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। মানিক হোসেন নামে এক ফল বিক্রেতা বলেন, ফুটপাতে সারাদিন বসি না। বিকেলে লোকজন বেশি থাকে, তখনই বসি। এই সময়েই কিছু বিক্রি হয়।
পথচারীরা বলছেন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে নির্দেশনা এলে মাঝেমধ্যে এমন অভিযান পরিচালনা করা হয়; কিন্তু এর কোনো সুফল মানুষ পায় না। সাময়িক অভিযান চালানো হলেও সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতেও বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।
ছানোয়ার হোসেন বলেন, অভিযানে ফুটপাতে অবৈধভাবে স্থাপিত দোকানপাট, দোকানের বর্ধিতাংশ ও বিভিন্ন মালামাল উচ্ছেদ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে জরিমানাও করা হচ্ছে। ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত। তাই জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএইচ/ক.ম