নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে উপদেষ্টা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের উদ্দেশ্যে লেখা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তর করেন। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমিরাতের নেতৃত্ব, সরকার এবং জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ বার্তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা, প্রাণহানি এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধকালীন এই কঠিন সময়ে সেখানে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমিরাত সরকার যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
চিঠির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং সংঘাত নিরসনে সংহতি প্রকাশ করা।
বৈঠক চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এই যুদ্ধে ইরানি আক্রমণে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তার সরকার দেশটিতে বসবাসরত সকল মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।
যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশের অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রশংসা করেন। জবাবে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আমিরাতের ধৈর্যশীল নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ ও কূটনৈতিক উপায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির অঙ্গীকার করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে হুমায়ুন কবির বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো সফর করছেন যাতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর নেতৃত্বের কাছে বাংলাদেশের বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায় এবং আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা আরও সুদৃঢ় হয়।
এই সফরের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় অবস্থান এবং মিত্র দেশগুলোর প্রতি দায়বদ্ধতা ফুটে উঠেছে। দুই দেশই ভবিষ্যতে শিক্ষা, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা খাতে যৌথভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
এসএইচ/এএস