জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
রাজধানীর টার্মিনালের অভ্যন্তরে থাকা সকল অবৈধ দোকান উচ্ছেদে শিগগিই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নগর ভবনে দায়িত্বগ্রহণের পর এক মাসের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসন এবং যানজটমুক্ত সড়ক নিশ্চিত করতে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আব্দুস সালাম বলেন, সায়েদাবাদ ব্রিজের ঢাল হতে টিটি পাড়া পর্যন্ত সড়ক পার্শ্বস্থ সকল অবৈধ টিকিট কাউন্টার সময় নির্ধারণপূর্বক নোটিশ প্রদান করে অপসারণ করা হবে। এছাড়া টার্মিনালের অভ্যন্তরে থাকা সকল অবৈধ দোকান উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
প্রশাসক বলেন, টার্মিনাল অভ্যন্তরে প্রকৃত বাস কোম্পানিগুলোর অনুকূলে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে টিকিট কাউন্টার বরাদ্দ দেওয়া হবে। বাস মালিক সমিতি, ডিএসসিসি ও পুলিশের ট্রাফিক সমন্বিতভাবে কাউন্টার বরাদ্দে কাজ করবে।
তিনি বলেন, বাসগুলোকে ডিপো হিসেবে টার্মিনাল ব্যবহার না করে নির্ধারিত ৫টি বাস-বে ব্যবহার করতে হবে। যাত্রী উঠানোর জন্য বাসগুলো মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে পারবে।
আব্দুস সালাম বলেন, যাত্রীদের সুবিধার্থে টার্মিনালে নতুন তথ্য কেন্দ্র এবং মাতৃদুগ্ধ পান করানোর কক্ষ স্থাপন করা হবে। ঈদযাত্রার পূর্বে টার্মিনালের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ, শৌচাগার মেরামত এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, টার্মিনালের অভ্যন্তরে দীর্ঘকাল ধরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত বাসগুলো জব্দ করে অপসারণের জন্য ট্রাফিক বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা মূল সড়কের যানজট কমাতে সহায়তা করবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ডিএসসিসি আওতাধীন ২০টি পার্ক ও উদ্যান, ১৩টি খেলার মাঠ, ২০টি চত্বরসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা—মসজিদপাড়া, শ্যামপুর, জুরাইন, ধানমন্ডি লেক, কবিরহাট, শ্যামবাজার ও খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য নিজস্ব তত্ত্বাবধানে নার্সারি স্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জিরো পয়েন্ট হতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সড়ক মিডিয়ান ও ফুটপাতে ফুলগাছ ও টব স্থাপনের মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
“অঞ্চল-১ থেকে অঞ্চল-৫ পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসন ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। ৭৫টি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক ও কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ‘ক্লিন সিটি ও গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে ঢাকা রিসোর্স সার্কুলেশন পার্ক নির্মাণের মাস্টারপ্ল্যান উপস্থাপন এবং কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
প্রশাসক বলেন, সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট পরিষ্কার কার্যক্রম উদ্বোধনের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়েছে। স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীর চারটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কারের কাজ শুরু হলো। নির্ধারিত সময়সীমা পাঁচ মাস হলেও বর্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে আগামী এক মাসের মধ্যে এই বক্স কালভার্টগুলোর বর্জ্য অপসারণ করে পানির প্রবাহ সচল করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, ল্যান্ডফিলে প্রায়ই ঘটা অগ্নিকাণ্ড রোধে ১৮১ একর জায়গাজুড়ে ৪০টি পয়েন্টে পানির হাইড্রেন্ট স্থাপন এবং পানির লাইনসহ স্থায়ী জলাধার নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আগুন নেভানোর জন্য নতুন ৬টি পোর্টেবল পাম্প কেনা হয়েছে। ময়লার স্তূপ থেকে উৎপন্ন মিথেন গ্যাসের কারণেই মূলত এখানে আগুন লাগে। বর্তমানে ময়লার উপরে মাটির আচ্ছাদন দেওয়ার কাজ প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, যা দুর্গন্ধ ও অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশাসক বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে জোরদার করা হয়েছে। মশক সুপারভাইজার ও মশককর্মীদের সমন্বয়ে হটস্পট এলাকাসমূহ এবং প্রতিদিনের রুটিন অনুযায়ী সকালে লার্ভিসাইডিং এবং বিকালে এ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন হাসপাতাল, থানা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের মোট হোল্ডিং সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হজার ৮৮১, যার ট্যাক্সের লক্ষমাত্রা ৬০০ কোটি টাকা। মার্চ (২০২৬) পর্যন্ত ২৯০ কোট টাকা আদায় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও গতিশীলতা আনয়নের জন্য দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে রাজস্ব বিভাগের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। কর কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স মূল্যায়ন ও আদায়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার জন্য সভা করা হয়েছে এবং আদায় কার্যক্রম জোরদার করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সরকারি/বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের (গণপূর্ত, ঢাকা ওয়াসা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রেলওয়ে) নিকট বড় পাওনা পরিশোধ/আদায়ের জন্য পত্র প্রেরণসহ ব্যক্তিগত ও প্রাাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কর আদায় ও কর ধার্যের ক্ষেত্রে গ্রাহক ভোগান্তি ও হয়রানি না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স এ থাকবে।
মার্কেটের বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন মার্কেটসমূহে শৃঙ্খলা/নিয়মতান্ত্রিক করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্মাণাধীন মার্কেটসমূহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য মার্কেট নির্মাণ সেলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এএম/এএস