নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে ভুক্তভোগীকে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল করার অপরাধে এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (১ এপ্রিল) মধ্যরাতে ঢাকার সাভার ডিওএইচএস এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আল আসিফ মাহমুদ প্রিন্স পেশায় একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আইডি খুলে এক ভুক্তভোগীকে ভিডিও ছড়ানোর হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে, এক ভুক্তভোগী আশুলিয়া থানায় একটি পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করে। মামলার পর জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত আলামত ও ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং এর শিক্ষার্থী।
গ্রেফতার হওয়া যুবক ও চক্রের সদস্যরা ফেসবুকে একটি নির্দিষ্ট আইডিকে টার্গেট করে সুকৌশলে নিজেদের আয়ত্তে এনে আইডি থেকে ব্ল্যাকমেইলিং করার মত বিভিন্ন উপাদান সংগ্রহ করে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে মান সম্মান ক্ষুণ্ন করার ব্ল্যাকমেইলিং ও ক্রমাগত চাপে রেখে ধাপে ধাপে অর্থ আদায় করে নিত এ চক্রটি।
আরও পড়ুন: গুলিস্তান-ঢামেক ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দিল পুলিশ
তিনি আরও জানান, মামলাটি তদন্তকালীন জানা যায় যে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ভুক্তভোগীকে নক দিয়ে ভুক্তভোগী ও তার স্বামীর ব্যক্তিগত ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।
ক্রমাগত হুমকিতে মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার ভয় দেখিয়ে একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর নিকট বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে মোট ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
এরপর তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে বিশ্লেষণ করে আল আসিফ মাহমুদ প্রিন্সকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় ব্ল্যাকমেইলিং এর কাজে ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন এবং ২টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসিফ মাহমুদ প্রিন্স ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে সুকৌশলে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি হাতিয়ে নেয় এবং পরবর্তীতে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করার অভিযোগ স্বীকার করেছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় সিআইডি।
একেএস/এআরএম