images

জাতীয়

আজ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম

অটিজম বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্নায়ুবৈচিত্র্যের অগ্রগতি এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনকে সামনে রেখে ‘অটিজম ও মানবতা– প্রতিটি জীবনেরই মূল্য আছে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পালিত হচ্ছে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস।

দিবসটি পালনের মূল লক্ষ্য, অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের সুযোগ তৈরি করা।

দিবসটি উপলক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, সামাজিক সংগঠনসমূহ বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামুলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে এবং শিশুদের মেলামেশা ও নতুন কিছু অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরিতে অবদান রাখছে।

অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে ২ এপ্রিলকে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ হিসেবে পালনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকে প্রতি বছর দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

অটিজম কী এবং কেন হয়

বিশেষজ্ঞদের মতে ‘অটিজম হলো মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষসমূহের বিকাশজনিত অসুস্থতা। জন্মের পর আপাতদৃষ্টিতে শিশুকে সুস্থ মনে হলেও, সাধারণত ১৮ মাস থেকে ৩ বছর বয়সের মধ্যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।’ স্বাভাবিক শিশু যেখানে চার মাসে মানুষের মুখ চেনে এবং নয় মাসে ‘বাবা-মা’ বলতে পারে, সেখানে অটিস্টিক শিশুর মাইলস্টোনগুলো দেরিতে আসে বা অসম্পূর্ণ থাকে। এরা চোখের দিকে তাকিয়ে সাড়া দিতে পারে না, একই কাজ বারবার করে এবং প্রচণ্ড অস্থির প্রকৃতির হয়।

অনেকেই মায়ের দিকে আঙুল তুললেও, চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। অটিজমের সুনির্দিষ্ট একটি কারণ নেই, এটি জিনগত বা পরিবেশগত কারণে হতে পারে। মা-বাবা উভয়ের বেশি বয়স, গর্ভকালীন মায়ের বিশেষ কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া, ভেজাল খাদ্য গ্রহণ, বায়ুদূষণ বা অপরিণত বয়সে (৩৮ সপ্তাহের আগে) জন্ম নেওয়া এর অন্যতম কারণ হতে পারে।

অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অনেক শিশুই যোগাযোগে অসুবিধার সম্মুখীন হয়, বিশেষত কথা বলা ও সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রে। তবে সঠিক সময়ে উপযুক্ত থেরাপি পেলে তারা উল্লেখযোগ্য উন্নতি করতে পারে।

সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় আড়াই লাখ অটিস্টিক তথা প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি ৫০০ শিশুর মধ্যে ১ জন অটিজমে আক্রান্ত।

সূত্রমতে, প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ১,৫০০ শিশু এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার হার আড়াই গুণ বেশি। গ্রামের চেয়ে শহরে অটিস্টিক শিশুর হার বেশি।

এফএ