নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৩ এএম
সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের অভিযানে জরিমানার প্রতিবাদ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (১ এপ্রিল) রাত থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এতে পুরো সিলেট বিভাগজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে পুলিশ, বিজিবি ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং পাম্পে চাহিদামতো জ্বালানি তেল না দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ট্রাকচালকরা। মাঝ সড়কে ট্রাক ফেলে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
সংগঠনের নেতারা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের নামে প্রতিনিয়ত পেট্রোল পাম্পে জরিমানা করা হচ্ছে, যা তারা ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তাদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের সরবরাহ না থাকায় ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই চাপে রয়েছেন। এর মধ্যে ধারাবাহিক অভিযান ও জরিমানার কারণে ব্যবসা পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, জ্বালানি তেল বিক্রিতে প্রশাসনের বিভিন্ন শর্ত, ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, ডিপোতে বিজিবি মোতায়েনসহ নানা সিদ্ধান্ত ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার অসহযোগিতার অভিযোগও তোলেন তারা।
এর আগে বুধবার দুপুরে সিলেট নগরের ‘এ অ্যান্ড এ অ্যাসোসিয়েটস’ নামের একটি পেট্রোল পাম্পে জেলা প্রশাসন ও র্যাবের যৌথ অভিযানে সরকার নির্ধারিত সীমার বেশি পেট্রোল মজুদ রাখার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পাম্প মালিকদের দাবি, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ চরমে পৌঁছায় এবং সিলেট বিভাগের সকল পাম্প বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পাম্প মালিকরা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিলেট বিভাগের সিএনজি, এলপিজিসহ কোনো ধরনের জ্বালানি স্টেশন পরিচালনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পাম্পগুলো বন্ধ থাকবে বলেও জানান তারা।
এএইচ