images

জাতীয়

‘১৫ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার, ফেরাতে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে চিহ্নিত দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও সম্পদ শনাক্তের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ ১০টি দেশকে টাকা পাচারের গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দেশের সঙ্গে আইনি সহায়তা জোরদার এবং তদন্তের জন্য যৌথ দল কাজ শুরু করেছে।

পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড নিয়ে সরকারের উদ্যোগ, বরাদ্দ এবং মূল্যস্ফীতির বিষয়েও প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব কর্মসূচির কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার কোনো শঙ্কা নেই; বরং অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতেহারের কার্যক্রম বাস্তবায়নে ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং পাঁচ বছরের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঈদুল ফিতরের আগেই ইমাম, মোয়াজ্জেম, খাদেম ও পুরোহিতসহ মোট ৯ হাজার ১০২ জনের ব্যাংক হিসাবে সম্মানি দেওয়া হয়েছে।

ই-হেলথ কার্ড চালুর জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড চালু করা হবে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২২ হাজার কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে উদ্যোগ

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রকাশিত শ্বেতপত্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড়ে প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও হংকং-চীনকে পাচারের গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে এসব দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং আইনি সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি ও মিউচুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্টের মাধ্যমে অর্থ ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়াসহ সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ, এনবিআর ও শুল্ক গোয়েন্দাদের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।

যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অর্থ পাচারে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অতীতে আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে অর্থ পাচার হয়েছে। বর্তমান সরকার আইনের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায়।

এআর