নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে ৩ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশের ৬৪ জেলায় ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান চালিয়েছে সরকার। এসব অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১ হাজার ৫৩টি মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টিতে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া তেলের মধ্যে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৫ লিটার ডিজেল, ২২ হাজার ৫৩৯ লিটার অকটেন এবং ৪৬ হাজার ১৪৬ লিটার পেট্রল রয়েছে। অবৈধ মজুতকারীদের কাছ থেকে ৭৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে মুখপাত্র বলেন, দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। মার্চ শেষে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেল উদ্বৃত্ত আছে। এ ছাড়া ৩০ মার্চ ও ৩ এপ্রিল আরও দুটি জাহাজে ৫৪ হাজার ৬০০ টন ডিজেল দেশে আসার কথা রয়েছে। ভারত থেকে পাইপলাইনে অতিরিক্ত তেল যুক্ত হচ্ছে এবং চীন, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকেও নতুন চালান আসবে। ফলে সরবরাহে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে ডিজেল সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে কৃষকদের তালিকা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো জেলার পক্ষ থেকে সংকটের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
মুখপাত্র বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কেনাকাটা ও অবৈধ মজুতের কারণে সাময়িক চাপ তৈরি হলেও মার্চ মাসে সামগ্রিক সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। ঈদকে সামনে রেখে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি খাতে। বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে প্রতি মাসেই জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয় এবং আগামী মাসের জন্য মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সরকার জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও নতুন উৎস খোঁজা হচ্ছে এবং সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য শিথিল করায় আগামী দুই মাসে রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারত থেকে অতিরিক্ত তেল আমদানি করতে ইতিমধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে শিগগিরই ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার পাশাপাশি নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপরিশোধিত বা পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি ও নিরাপত্তা প্রদানের জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলমান আছে। এ বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করছে জ্বালানি বিভাগ।
এআর