নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায় (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন, যাতে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তিনি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন এমসি১৪-এ এ–সংক্রান্ত কার্যকর একটি প্যাকেজ গ্রহণের আহ্বান জানান।
শনিবার (২৮ মার্চ) চলমান ডব্লিউটিও মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের তৃতীয় দিনে বিভিন্ন থিম্যাটিক সেশনে অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী সংস্থাটির সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, একটি কার্যকর, পূর্বানুমেয় ও নিয়মভিত্তিক বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য দ্রুত পূর্ণাঙ্গ দুই-স্তরবিশিষ্ট ডিসপিউট সেটেলমেন্ট সিস্টেম পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অ্যাপিলেট বডির কার্যক্রম পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মৎস্য খাতে ভর্তুকি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিকর ভর্তুকিতে বাংলাদেশের অবদান প্রায় শূন্যের কাছাকাছি, যেখানে বৃহৎ মৎস্য আহরণকারী দেশগুলো বড় অংশীদার। এ অবস্থায় ক্ষতিকর ভর্তুকির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পাশাপাশি স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশেষ ও পৃথক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জেলেদের সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্টে ১২৯তম সদস্য হিসেবে যোগদানের ঘোষণা দেয়, যা ডব্লিউটিও কাঠামোর অধীনে বাংলাদেশের প্রথম কোনো বহুপাক্ষিক চুক্তিতে অংশগ্রহণ। বাণিজ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও হংকংসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
কৃষি খাত প্রসঙ্গে তিনি খাদ্য নিরাপত্তা, জীবিকা ও দারিদ্র্য বিমোচনে কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরে পাবলিক স্টকহোল্ডিং, বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নত দেশগুলোর বাণিজ্য বিকৃতকারী ভর্তুকির মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয় দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কৃষি আলোচনায় বিশেষ ও পৃথক সুবিধা অবশ্যই কেন্দ্রীয় অবস্থানে থাকতে হবে।
এলডিসি প্যাকেজ বিষয়ে বাংলাদেশ দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তিনি এমসি১৪ সম্মেলনে এ প্যাকেজ গ্রহণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ ছাড়া ট্রিপস চুক্তির আওতায় নন-ভায়োলেশন ও সিচুয়েশনাল কমপ্লেইন্টসের ওপর মোরাটোরিয়াম পরবর্তী মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন পর্যন্ত অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছে বাংলাদেশ। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অভিযোগ উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিগত স্বাধীনতা, বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রে, ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তিমূলকতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে হতে হবে। বাংলাদেশ একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় সংস্থাটির প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকবে।
এমআর/এআর