images

জাতীয়

বছরে ১৪ হাজার প্রাণহানি, পানিতে ডোবা রুখতে থাকছে বিশেষ বরাদ্দ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

দেশে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত ‘পানিতে ডোবা’ প্রতিরোধে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। প্রতি বছর ১৪ হাজারের বেশি শিশুর অকাল মৃত্যু রুখতে আগামী জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি জাতীয় নীতিমালায় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘পানিতে ডুবে যাওয়া প্রতিরোধে টেকসই সরকারি অর্থায়ন’ শীর্ষক এক নীতি-সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ সরকারের এই পরিকল্পনার কথা জানান।

গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিষয়ক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ‘সমষ্টি’ এই সংলাপের আয়োজন করে, যেখানে কারিগরি সহায়তা দেয় গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর।

সংলাপে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়। সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ এই পরিসংখ্যানকে ‘৪০টি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনের উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। একটি শিশু অকালে ঝরে যাওয়া মানে আমাদের সামগ্রিক অগ্রগতির পথে বড় এক অপূর্ণতা।’

সমষ্টির পরিচালক (গবেষণা ও যোগাযোগ) রেজাউল হক সংলাপে একটি নীতি পর্যালোচনা তুলে ধরে জানান, বর্তমানে কমিউনিটিভিত্তিক শিশু-যত্ন কেন্দ্র, সাঁতার প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মতো উদ্যোগগুলো সফল হলেও তা এখনো ‘প্রকল্পভিত্তিক’। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বাজেটে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এর ধারাবাহিকতা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই ঝুঁকি এড়াতে এবং টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করতে স্থায়ী সরকারি বিনিয়োগের বিকল্প নেই বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে ‘কমিউনিটিভিত্তিক শিশু-যত্ন কেন্দ্র’ চালু রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া বাড়ির পাশের পুকুর বা জলাশয় যাতে মরণফাঁদ না হয়, সেজন্য প্রতিটি পরিবারকে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. মামুনুর রশীদসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন।

সংলাপে প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল হক, সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হাসানসহ অন্য বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম বিস্তার এবং বহুপক্ষীয় অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা অভিমত দেন যে, কেবল সচেতনতা নয়, বরং বাজেট বরাদ্দ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে এই ‘নীরব মহামারি’ মোকাবিলা করতে হবে।

সমষ্টির নির্বাহী পরিচালক মীর মাসরুরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফের মুনীরা হাসান, কাওসার রহমান, শুচি সৈয়দ, সুকন্যা আমীর, শাহনাজ শারমীন, রাবেয়া বেবী, শাহনাজ পলি প্রমুখ।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই সংলাপের সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার কার্যকরভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বিইউ/জেবি