নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে সর্বনিম্ন ৩৫ এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অস্থায়ীভাবে ৩৭ থেকে ৪০ বছর করার দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গড় আয়ু বৃদ্ধি, অবসর গ্রহণের বয়সসীমা পরিবর্তন এবং শিক্ষাজীবনের দীর্ঘসূত্রতার সঙ্গে চাকরিতে প্রবেশের বর্তমান বয়সসীমা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক যোগ্য প্রার্থী সরকারি চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে চাকরি প্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা এ দাবি জানান।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, দেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়লেও এবং অবসরের বয়সসীমা পরিবর্তন হলেও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা একই জায়গায় স্থবির হয়ে আছে। বর্তমানে ৩০ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ এই বয়সসীমা অনেক যোগ্য প্রার্থীর সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে। তাই চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩৫ এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অস্থায়ীভাবে সর্বনিম্ন ৩৭-৪০ বছর করার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানায় আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, সেশনজট, করোনাকালীন দীর্ঘ বিরতি এবং পর্যাপ্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অভাবে অনেকেই নির্ধারিত বয়সের মধ্যে চাকরিতে আবেদন করতে পারছেন না। ফলে তারা বারবার বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সোহেল আমিন বলেন, আমরা ১৪ বছর ধরে এই দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। একটি কমিশন গঠন করা হলেও তাদের সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।
মমিন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনি ইশতেহারে বয়সসীমা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বয়সসীমা অন্তত ৪০ বছর হওয়া উচিত।
অন্যদিকে শুভ নামের আরেক শিক্ষার্থী জানান, দীর্ঘদিনের আন্দোলনে অনেক শিক্ষার্থী নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তবুও তারা তাদের দাবি থেকে পিছিয়ে যাননি। তিনি বলেন, এখন সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এএইচ/ক.ম